ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিতর্কিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার পর তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এবারও তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন।
রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সাবেক সদস্য এস এ কে একরামুজ্জামানকে দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার নির্দেশক্রমে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে প্রার্থী হওয়ার পর ২০২৩ সালের ২৯ নভেম্বর একরামুজ্জামানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে জেলা ও উপজেলা বিএনপি একরামুজ্জামানকে এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন একরামুজ্জামান। ২০২৪ সালের ২৬ জুন রাতে ৭৫ সদস্যবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে একরামুজ্জামানকে উপদেষ্টা করা হয়। তবে তাঁর দাবি, কমিটি ঘোষণার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন একরামুজ্জামান। এখানে বিএনপির প্রার্থী নাসিরনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবদুল হান্নান।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৮ জানুয়ারি দুপুরে রাজধানীর গুলশান কার্যালয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন একরামুজ্জামান। নানা বিষয়ে তাঁদের আলোচনা হয়। ওই দিন রাতেই তিনি ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় ধানের শীষের সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। পরদিন ৯ জানুয়ার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য লিখিত আবেদন করেন তিনি।