জেলার অন্তত ১০ নেতা–কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাস না পেয়ে বিএনপির নেতা–কর্মীরা মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় গাইবান্ধা থেকে সুন্দরগঞ্জ হয়ে রংপুরে ঢুকছেন। সদর উপজেলা ও সুন্দরগঞ্জ অন্য উপজেলার নেতা–কর্মীরা বিশ্বরোড দিয়ে রংপুর যাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, ‘বাসে গাইবান্ধা থেকে রংপুরে যেতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। শনিবার সকালে ইজিবাইকে গেলে হয়তো ঠিক সময়ে পৌঁছতে পারব না। তাই আজ সকাল নয়টায় রওনা দিই। তিন ঘণ্টায় রংপুর পৌঁছে গেছি। তবে এখানে হোটেলে ফাঁকা পাইনি। তাই আজকের রাতটা ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একটি ছাত্রাবাসে থাকব।’

সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের বিএনপি নেতা জামিরুল মিয়া বলেন, ‘কাল শনিবার ভোরে অটোরিকশায় যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অনেক চালক রংপুরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। তাই মোটরসাইকেল নিয়ে বিকল্প পথে রংপুরে যাব।’

জেলা বিএনপির সভাপতি মইনুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘গাইবান্ধার সাতটি উপজেলা থেকে অন্তত ২৫ হাজার নেতা–কর্মী আগামীকালের গণসমাবেশে যোগ দেবেন। নেতা–কর্মীর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। বিএনপির সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে পরিবহন ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। খুলনা ও ময়মনসিংহের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা ধর্মঘটের বিষয়টি আঁচ করেছি। তাই নেতা–কর্মীরা আগে থেকেই রংপুরে গেছেন। সেখানে তাঁরা পরিচিত নেতা–কর্মী, আত্মীয়স্বজন ও হোটেলে থাকছেন।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারণ সম্পাদক ও জেলা কৃষক দলের সভাপতি ইলিয়াছ হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের দুশাসন দেখে দেশে বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির গণসমাবেশগুলো তা প্রমাণ করে। পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে, মামলা হামলা করে বিএনপির আন্দোলনকে থামানো যাবে না। কাল কোনো নেতা–কর্মী গাইবান্ধায় থাকবেন না। কালকে সবার অবস্থান হবে রংপুরে।

ধর্মঘটে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ

এদিকে আজ সকাল থেকে গাইবান্ধা থেকে সব রুটে বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। আজ সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে সারি সারি বাস দাঁড়িয়ে আছে। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই ধর্মঘটের বিষয়টি না জানায় বাস টার্মিনাল এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অনেকে অটোরিকশাসহ অন্যান্য ছোট যানে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোলালি গ্রামের ব্যবসায়ী ফিরোজ কবির বলেন, তিনি প্রতি শুক্রবার দোকানের মালামাল কিনতে বগুড়া যান। সেখানে সারাদিন মালামাল কিনে পরদিন আবার গাইবান্দায় ফিরে আসেন। আজ সকালে বাস টার্মিনালে এসে জানতে পারেন বাস বন্ধ। এখন বাধ্য হয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিনি ভেঙে ভেঙে বগুড়া যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

জানতে চাইলে গাইবান্ধা জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. মকবুল হোসেন বলেন, মহাসড়কে নসিমন, অটোরিকশাসহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে রংপুর বিভাগীয় কমিটি ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিভাগীয় কমিটি থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানালে গাইবান্ধা জেলাতেও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। আজ সকাল ছয়টা থেকে কাল শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে।