এতটুকু বলেই মূর্ছা যান রাজিয়া খাতুন। এ সময় পাশেই বাকরুদ্ধ হয়ে মাটিতে বসেছিলেন রুহুল আমিনের বয়স্ক বাবা উজিরুল ইসলাম।

এলাকাসী সূত্রে জানা গেছে, কোনাবাড়ীর পাশাপাশি দুটি গ্রাম জয়েরটেক ও আহাকি। দুই গ্রামের ২৩ জন দুটি মাইক্রোবাস ভাড়া নিয়ে যাচ্ছিলেন পদ্মা সেতু ও কুয়াকাটায় বেড়াতে। পদ্মা সেতু দেখার পর কুয়াকাটায় যাওয়ার পথে গতকাল দুপুরে একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই গ্রামের ছয়জন নিহত ও চারজন আহত হন। রাতেই আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁদের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন স্বজনেরা।

নিহত অপর চারজন হলেন জয়েরটেক গ্রামের জবর আলীর ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০), একই এলাকার হাসেন আলীর ছেলে আবদুর রহমান (৪৫), নূরুল ইসলাম ওরফে ঠান্ডু (৪৮) এবং আহাকি এলাকার তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. হাসান আলী (৩৮)। মো. হাসান সম্পর্কে শহিদুল ইসলামের ভাগনে।

রুহুল আমিনের বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরেই এ দুর্ঘটনায় নিহত শহিদুল ইসলামের বাড়ি। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, স্ত্রী রুবি বেগম, ১৪ বছরের ছেলে মো. রেদুয়ান, বোন শিউলি আক্তারসহ পরিবারের সদস্যদের বিলাপ যেন থামছেই না। বাড়িতে ভিড় করছেন প্রতিবেশী ও স্বজনেরা। তাঁরা ওই পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

default-image

বিলাপ করতে করতে শহিদুলের স্ত্রী রুবি বেগম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটার সময় আমারে ঘুম থেকে ডেকে বলে, আমি যাচ্ছি, তুমি উঠে দরজা বন্ধ করে দাও। কে জানত এই যাত্রাই শেষ যাত্রা হবে। আমি দরজা বন্ধ না করে তাঁর পেছনে পেছনে কিছুদূর হেঁটে যাই। কিন্তু যাওয়ার সময় কিছু বইলাও গেল না লোকটা।’

পেশায় দলিল লেখক শহিদুলের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর বোন শিউলি আক্তার বলেন, ‘ভাই আমার বাড়ির পাশে মসজিদের সামনে জমি কিনে কবরস্থান তৈরি করেছিলেন। সেই কবরস্থানেই তাঁকে কবর দেওয়া হলো। ভাইটা আমার এভাবে চলে যাবেন, ভাবতেই পারিনি।’

আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জয়েরটেক খাজা মার্কেট এলাকায় একটি খোলা মাঠে নিহত ছয়জনের লাশের পৃথক দুটি জানাজা হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।

জয়েরটেক এলাকার বাসিন্দা মো. ময়জুদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এর আগে একসঙ্গে এত মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। আশপাশ এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জানাজায় কয়েক হাজার মানুষ হয়েছে। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এসে জানাজায় অংশ নিয়েছেন।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন