জুড়ীর সেই ঘরহারা নূরজাহানকে নতুন ঘর বানিয়ে দিল ‘সিলভার জুবিলি’
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের বাছিরপুর গ্রামের বাসিন্দা নূরজাহান বেগমের (৬০) বসতঘরের চালা ঝড়ে উড়ে গিয়েছিল। ভেঙে পড়েছিল ঘরের বেড়া। এর পরপরই বন্যায় ঘরে পানি উঠে যায়। নূরজাহান তিন সন্তানকে নিয়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে বেশ কিছুদিন আশ্রয়ে ছিলেন। পানি কমার পর বাড়িতে ফেরেন। ভাঙাচোরা ঘরের পাশে খুপরিঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। নূরজাহান এখন টিনশেডের নতুন একটি ঘর পেয়েছেন। ‘সিলভার জুবিলি’ নামের এইচএসসি-১৯৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন তাঁকে ঘরটি নির্মাণ করে দিয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের সদস্যরা ঘরটি হস্তান্তর করেন।
সংগঠনের সদস্যদের সূত্রে জানা গেছে, নূরজাহানের দুর্দশা নিয়ে ১৮ জুলাই প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে ‘ভাতই খাইতাম পারি না, ঘর ঠিক করতাম কিলা’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি তাঁদের নজরে পড়ে। এরপর সংগঠনের সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে নূরজাহানের খোঁজখবর নেন। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁকে একটি ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিন শতকের ভিটাতে পাকার খুঁটি দিয়ে ২২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১০ ফুট প্রস্থের ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়া হয়। কাজ সম্পন্নের পর গতকাল বেলা দুইটার দিকে ঘরটি তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনফর আলী, সংগঠনের সদস্য আজিজুর রহমান, নূরজাহান বেগম, নূরজাহানের ছেলে রুবেল মিয়া ও মেয়ে লাকি বেগম উপস্থিত ছিলেন।
নূরজাহান বেগম বলেন, ‘ঝড়-বন্যায় আগের ঘরটা শেষ করি দিল। অখন নতুন ঘর পাইলাম। যারা ঘর বানাইয়া দিছে, তারার লাগি আল্লাহর কাছে দোয়া করি।’ তিনি আরও বলেন, প্রথম আলোয় প্রকাশিত সংবাদ পড়ে কয়েক দিন আগে ‘টিম-১৫’ নামের স্থানীয় একটি সংগঠনের সদস্যরা বাড়িতে গিয়ে তাঁর হাতে নগদ পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন।
পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনফর আলী বলেন, ‘বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোটাই প্রকৃত মনুষ্যত্ব। সিলভার জুবিলি সংগঠন এটার পরিচয় দিল। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
সংগঠনের সদস্য আজিজুর রহমান বলেন, প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি তাঁদের আবেগতাড়িত করেছিল। পরে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করলে নূরজাহানকে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়ে সবাই সম্মত হন। সবার আর্থিক সহযোগিতায় ঘরটি নির্মিত হয়েছে। ঘর নির্মাণে ৪১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।