নিহত রাকিব হাসান ওই গোলাকান্দাইল কাঠপট্টি এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে ও মো. কাউসারের ছোট ভাই। রাকিব হাসান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমানের অনুসারী ছিলেন। এদিকে অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন পরিবহন শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনিও একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ জানিয়েছে, রাকিবের ভাই কাউসার তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী ও ডাকাত দলের সদস্য। সম্প্রতি ছিনতাই ও মাদক মামলায় রাকিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। মাদক ব্যবসা ও পরিবহন চাঁদাবাজিসহ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দেলোয়ারের সঙ্গে রাকিব ও তাঁর ভাই মো. কাউসারের দ্বন্দ্ব চলছিল। ওই বিরোধের জেরে গত মাসে দেলোয়ার হোসেনের লোকজন রাকিবের বাড়িতে আগুন দিয়েছিলেন। পরে রাকিব বেশ কয়েকবার দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ ধাওয়া করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল। চলমান এই দ্বন্দ্বের জেরেই গতকাল রাতে রাকিবকে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

তবে দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল দিবাগত রাত ১২টায় মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি হত্যা করিনি। কারা করেছে, জানি না। গত শুক্রবার রাকিব আমারে গুলি করার পর থেইকা আমি বাড়ির বাইরে। ওরা আমার বাড়িঘরে আগুন দিসে।’

পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল রাত নয়টার দিকে গোলাকান্দাইল কাঠপট্টি এলাকায় একদল সন্ত্রাসী রাকিব হাসানের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাকিব হাসানকে উপর্যুপরি কোপানো হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরে উত্তেজিত হয়ে রাকিবের স্বজন ও অনুসারীরা লাশ নিয়ে মিছিল শুরু করেন। পরে তাঁরা দেলোয়ার হোসেনের তিনতলা বাড়ি ও পাঁচটি দোকানঘরে আগুন দেন। এ সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকারে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভাতে এলে মিছিলকারীরা তাঁদের আগুন নেভাতে বাধা দেন। পরে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যদের সহায়তায় ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করে। পরে মিছিলকারীরা ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করে।

রাত একটায় ঘটনাস্থলে থাকা কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আগুনের খবর পেয়ে রাত ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নেভাতে আসে। পরে রাত একটার মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই বাড়িতে থাকা ১৪ নারী ও শিশু বাড়ির ছাদে অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদে নিয়ে এসেছেন।

এদিকে নিহত রাকিব এক সময় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী ছিলেন বলে প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমি যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রলীগ করা অবস্থায় রাকিব আমার অনুসারী কর্মী ছিলেন।’
তবে প্রথম আলোর কাছে আসা বেশ কিছু ছবিতে সম্প্রতি রাকিব হাসানকে আতিকুর রহমানের সঙ্গে ভুলতা এলাকায় যুবলীগের মিছিলে দেখা গেছে।

নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গ-সার্কেল) আবির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ ও র‌্যাব সতর্ক অবস্থানে আছে। রাকিবের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ১০০ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন