কক্ষ না পেয়ে কক্সবাজার সৈকতে রাত কাটানোর ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

কক্সবাজারে হোটেলে কক্ষ না পেয়ে পর্যটকেরা সমুদ্রসৈকতে রাত কাটাচ্ছেন—এমন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ছবি গতকাল শুক্রবার থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিতে বালুর ওপর মাদুর বিছিয়ে ব্যাগ, লাগেজ ও বালিশ নিয়ে বেশ কয়েকজনকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে প্রথম আলো ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, ছবিটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয়; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।

শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকদের ভিড়ের মধ্যে ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সৈকতে মানুষের শুয়ে থাকার এমন একাধিক ছবি ছড়িয়েছে। এসব ছবির সঙ্গে দাবি করা হচ্ছে, কক্সবাজারে বেড়াতে এসে আবাসনসংকটে পড়েছেন শত শত পর্যটক। হোটেল-মোটেলে কক্ষ না পেয়ে তাঁদের অনেকে সৈকতে রাত কাটাচ্ছেন।

এর মধ্যে প্রায় সাত লাখ অনুসারী থাকা মানজু আহমেদ নামের একটি ফেসবুক পেজে আলোচিত ছবিটি পোস্ট করা হয়। ছবিতে কয়েকজনকে শুয়ে থাকতে, কয়েকজনকে গোল হয়ে বসে আড্ডা দিতে এবং অন্যদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ছবিটির ক্যাপশনে লেখা, ‘কক্সবাজারে কষ্ট! হোটেলে রুম না পেয়ে আকাশের নিচে সমুদ্রে পেতেছি শয্যা’। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে এক হাজার ছয় শতাধিক প্রতিক্রিয়া পড়েছে। মন্তব্যেও অনেকে ছবিটিকে বাস্তব ধরে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। চৌধুরী সেজিনা নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে লেখা হয়েছে, ‘এতো মানুষের শখ, অবাক হয়ে যাই। যাবেই যখন আগে থেকে হোটেল বুকিং দিয়ে যাও।’

এআই দিয়ে তৈরি এই ছবিতে রয়েছে নানা অসংগতি
ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে নেওয়া

ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে কয়েকজনের হাত ও মুখমণ্ডলে অস্বাভাবিক বিকৃতি দেখা যায়। আলো-ছায়ার ক্ষেত্রেও অসংগতি রয়েছে। যাচাইয়ের অংশ হিসেবে হাইভ মডারেশন ও সাইট ইঞ্জিনসহ চারটি এআই-ছবি শনাক্তকারী টুল ব্যবহার করা হয়। এগুলোর ফলাফলও ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখায়। পাশাপাশি ছবি নিয়ে কথা হয় হোটেল মালিক ও পর্যটকদের সঙ্গেও।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, হোটেলে কক্ষ না পেয়ে পর্যটকদের সৈকতে রাত কাটানোর মতো পরিস্থিতি কক্সবাজারে গত ১০ বছরে ঘটেনি। এআই দিয়ে তৈরি এমন ছবি ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে। বাস্তবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।

কক্সবাজারের টুরিস্ট পুলিশ সুপার নিশাদ জামান প্রথম আলোকে বলেন এআই দিয়ে তৈরি ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে। এতে পর্যটকেরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। প্রকৃত অর্থে কক্সবাজার সৈকতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুন