বরিশালে ট্রাকচাপায় মেডিকেলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ

ট্রাকচাপায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তাঁর সহপাঠীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন। মঙ্গলবার বরিশাল নগরের আমতলার মোড়ে
ছবি: প্রথম আলো

বরিশাল নগরে ট্রাকচাপায় শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী তৌফিক আহম্মেদ ওরফে শুভর (২৩) মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বরিশাল জেলা শাখা। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় নগরের সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই সমাবেশ হয়।

গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের জেলা সংগঠক হুজাইফা রহমানের সঞ্চালনায় এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুজয় শুভর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাত্র কাউন্সিলের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংগঠক অনিকা সিঁথি, সাগর মিত্র, ভূমিকা সরকার, মৃত্যুঞ্জয় রায়, জেলা সংগঠক রাকিব মাহমুদ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, তৌফিককে মহাসড়কে খুন করা হয়েছে। এই খুনের বিচার রাষ্ট্রকে করতেই হবে। বক্তারা আরও বলেন, বরিশাল নগরে কোনো বাইপাস সড়ক নেই, ফলে দূরপাল্লার ভারী যানবাহন ও হালকা যান একই সড়কে যাতায়াত করে, যেটা দুর্ঘটনার মাত্রা বাড়ার অন্যতম কারণ। ফলে অনতিবিলম্বে বরিশাল সিটি এলাকার বাইরে দিয়ে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণ করতে হবে। লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।

সহপাঠীরা তৌফিকের মৃত্যুর বিচার ও নিরাপদ সড়কের দাবি জানান। মঙ্গলবার বরিশাল নগরের আমতলার মোড়ে
ছবি: প্রথম আলো

বক্তারা বরিশাল নগরে সড়কের অরাজকতা দূর করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগর পরিবহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

এদিকে, তৌফিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন তাঁর সহপাঠীরা। আজ বেলা একটার দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি নগরের বান্দ রোড হয়ে আমতলার মোড় এলে সড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কলেজ প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসে বেলা আড়াইটার দিকে অবরোধ তুলে নেন অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা।

বরিশালে ট্রাকচাপায় মেডিকেল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর প্রতিবাদে গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল বিক্ষোভ সমাবেশ করে। মঙ্গলবার বিকেলে নগরের সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি আমরাও একমত। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সিটি মেয়র ও নগর পুলিশকে নিয়ে অবিলম্বে একটি যৌথ সভা করব। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় যেসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, তা নেওয়া হবে। তৌফিকের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা ও শাস্তি নিশ্চিতের ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে।’

তৌফিক বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার গোমা এলাকার মো. মতিউর রহমানের ছেলে। তিনি বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে তৌফিক আহম্মেদ অটোরিকশায় করে নগরের নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের দিকে যাচ্ছিলেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি রোড বৈদ্যপাড়া গলির মুখে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সামনে থেকে ওই অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশা থেকে ছিটকে পড়েন তৌফিক। তাঁর মাথা ট্রাকটির চাকার নিচে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এ সময় গুরুতর আহত হন অটোরিকশার চালক মিজানুর রহমান (৪০)। তাঁকে বরিশাল শের-ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, ঘটনার পর ট্রাকসহ চালক রিয়াদ হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তিনি মাগুরা জেলার বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।