ফরিদপুরে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মামলার আসামি বিএনপির ৫৯ নেতা-কর্মীর জামিন
ফরিদপুরে গত ৪ সেপ্টেম্বর বিএনপির একটি সমাবেশে হামলা চালিয়ে পণ্ড করে দেয় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিক লীগ। ওই ঘটনার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের আসামি করে দুটি মামলা করে পুলিশ ও ছাত্রলীগ। এই দুই মামলায় আজ রোববার বিএনপির ৫৯ নেতা-কর্মী আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
আজ বেলা ১১টার দিকে ওই নেতারা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। এর আগে তাঁরা হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়েছিলেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া প্রথম আলোকে বলেন, এই দুই মামলার আসামিরা আজ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। জেলা ও দায়রা জজ আকবর আলী জামিন শুনানি শেষে মামলা দুটির অভিযোগপত্র না হওয়া পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন পাওয়া বিএনপি নেতারা হলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদারেছ আলী, কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াবা ইউসুফ, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী, আজম খান, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব গোলাম মোস্তফা, কোতোয়ালি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন চৌধুরী, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি শাহরিয়ার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কায়েস, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান, মহানগর যুবদলের সহসভাপতি মো. ইউসুফ হোসেন প্রমুখ।
গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শহরের কোর্ট চত্বর ও আইনজীবী সমিতির ভবনের ভেতরে বিএনপির সমাবেশে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলামসহ অন্তত ২৫ জন আহত হন।
এ ঘটনায় হামলার শিকার ব্যক্তিদের আসামি করে ৫ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক মাসুদ ফকির বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এ মামলায় বিএনপি, সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৮ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা করে জেলা ছাত্রলীগের এক নেতা। এতে আসামি হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয় বিএনপির ৫৮ নেতা-কর্মী ও অজ্ঞাতনামা হিসেবে রাখা হয় আরও ৫০০ জনের নাম।