সুনামগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোজাম্মেল হক প্রথম আলোকে বলেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের লামাকাজী এলাকার এম এ খান সেতুর টোল আদায় বন্ধ, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও পরীক্ষামূলক (অন টেস্ট) সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ, সুনামগঞ্জ বাস টার্মিনাল সংস্কার ও আধুনিকায়ন—এই চার দফা দাবিতে তাঁরা আগে থেকেই আন্দোলন করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির সমাবেশের সঙ্গে বাস ধর্মঘটের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে সিলেট ও মৌলভীবাজারে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয় নিজ নিজ জেলার বাস মালিক সমিতি। বিএনপির নেতাদের দাবি, গণসমাবেশে লোকসমাগম ঠেকাতেই বাস মালিকদের ধর্মঘট ডাকতে বাধ্য করেছে সরকার।

সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘এসব ধর্মঘটের উদ্দেশ্য আমাদের সমাবেশে যেতে বাধা দেওয়া। দেশের অন্যান্য বিভাগেও এসব করা হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমাদের কোনোভাবেই আটকানো যাবে না। নেতা-কর্মীদের অনেকেই সিলেটে পৌঁছে গেছেন।’

নূরুল ইসলাম আরও বলেন, বাস বন্ধ থাকলে নেতা-কর্মীরা লঞ্চে, প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেটে গিয়ে সমাবেশে যোগ দেবেন।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, নেতা-কর্মী হত্যার প্রতিবাদ, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীন সংসদ নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি বিভাগীয় শহরে ধারাবাহিক গণসমাবেশ করছে। প্রথমটি হয় গত ১২ অক্টোবর চট্টগ্রামে। এরপর ময়মনসিংহ, খুলনা, রংপুর, বরিশাল ও ফরিদপুরে (বিএনপির সাংগঠনিক বিভাগ) গণসমাবেশ করেছে বিএনপি। এর মধ্যে ময়মনসিংহ ছাড়া বাকি সব জায়গায় গণসমাবেশের আগে পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। ময়মনসিংহে গণসমাবেশের আগে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট পালিত হয়।