আজ সকাল ১০টার দিকে নিচিন্তপুর গ্রামের বিশ্বাস বাড়ি গিয়ে কথা হয়, দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে ফেরা নিচিন্তপুর গ্রামের সঞ্জিত খানের ছেলে প্রসেন খানের (১৬) সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ভোর পাঁচটায় রওনা হয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ঢালাই কাজে যান তাঁরা। কাজ শেষে একটি নসিমনে চেপে ১৪ জন বাড়ির পথে রওনা দেন। নসিমনটির চালক ছিলেন পারুলিয়া গ্রামের মো. বাশার মোল্লা। নসিমনের সামনে কোনো হেডলাইট ছিল না। মুঠোফোনের আলো দিয়ে চলছিল সেটি।

প্রসেন খান বলেন, ‘ওই রেলক্রসিংয়ের আগে একটা মোড় ছিল, পাশে অনেক গাছপালা থাকায় ট্রেনের হেডলাইট থেকে আসা আলো দেখা যাচ্ছিল না। এ ছাড়া নসিমনের উচ্চশব্দের কারণে অন্য কোনো শব্দও শোনা যাচ্ছিল না। নসিমনটি যখন রেললাইনে ওঠে, তখনই আমরা বুঝতে পেরেছি ট্রেন চলে এসেছে। কিন্তু কিছু করার আগেই মুহূর্তের মধ্যে সব শেষ হয়ে গেল। আমি কীভাবে, কোথায় গিয়ে পড়লাম বুজতে পারিনি। পরে উঠে দেখি কয়েকজন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছে। পরে স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে এক ব্যক্তির মুঠোফোন দিয়ে আমি বাড়িতে খবর দিই।’

প্রসেন খান আরও বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন এসে আমাদের সবাইকে খোঁজ করলে একজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানতে পারলাম, অমৃত বিশ্বাসকে ট্রেনটি টানতে টানতে প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দূরে নিয়ে গেছে। সেখান থেকে তাঁর লাশ খুঁজে আনা হয়েছে।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাঠামদরবস্ত এলাকার বাসিন্দা ইয়াহিয়া মোল্লা বলেন, কাগদী রেলগেটটি অরক্ষিত। জাটিগা-মাজড়া সড়কের রেলক্রসিংয়ের কাছে কোনো গতিরোধক নেই। তা ছাড়া আশপাশে পুরোটাই অন্ধকার। নেই কোনো সতর্কতামূলক বার্তাও। এসব কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে।

পারুলিয়া ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডের সদস্য সাধন কুমার খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুর্ঘটনায় আমার ওয়ার্ডের চারটি পরিবার শেষ হয়ে গেল। আজ ১০টায় দীগরগাতি শ্মশানে নিহত ব্যক্তিদের সমাহিত করা হয়েছে।’

কাশিয়ানী রেলস্টেশনের মাস্টার অনিক বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, কাগদী রেলক্রসিংয়ে কোনো গেটম্যান নেই। তা ছাড়া ওই স্টেশনটি হলো ইঞ্জিনিয়ারিং গেট। ওই সব গেটে ফলকে লেখা থাকে ‘এখানে কোনো গেট ম্যান নেই, সাবধানে চলাচল করুন’।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন