কুড়িগ্রামে তিস্তার পানি কমলেও বাড়ছে ব্রহ্মপুত্রের, দুর্ভোগে মানুষ

নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গোচারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মানুষ। আজ মঙ্গলবার সকালে উলিপুর উপজেলার সাহেবের আলগা ইউনিয়নের মাঝের আলগার চরে
ছবি: প্রথম আলো

কুড়িগ্রামে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বেড়ে বসতভিটায় উঠতে শুরু করেছে। জেলার প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে তিস্তার পানি গতকাল থেকে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার রাত ৯টায় তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল, যা আজ সকাল ৯টায় ৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে জেলার ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গাধর নদের পানি বেড়ে শতাধিক চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও এখনো রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন, বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন ও উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়ন, দলদলীয়া ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের দুই শতাধিক বসতবাড়ি পানিতে ডুবে আছে। নারী, শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিস্তার তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ।

আরও পড়ুন

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, উজানের ঢলে ও ভারী বৃষ্টির কারণে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আজ মঙ্গলবার ৯টায় তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বড় বন্যার কোনো আশঙ্কা নেই। মাঝারি বন্যা হতে পারে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, আজ সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদীর নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৪ সেন্টিমিটার, ধরলা নদীর পানি সদর পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার, দুধকুমার নদের পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, রোববার থেকে নামার চরের কিছু বাসায় পানি উঠতে শুরু করেছিল। সোমবার সারা দিন ও রাতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে নামার চর, মধ্যপাড়ার অর্ধশতাধিক বাড়িতে পানি উঠেছে। তিস্তা নদীর চরাঞ্চলে গোচারণভূমি পানির নিচে ডুবে যাওয়ায় গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এসব চরাঞ্চলের মানুষেরা।

আরও পড়ুন

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. আবদুল কুদ্দুস প্রামাণিক বলেন, গত দুই দিনে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে চর নাকেন্দা, গতিয়াশাম, খিতাব খাঁ, চর খিতাব খাঁ এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। আজ পানি কিছুটা কমলেও ইউনিয়নের প্রায় ৫টি ওয়ার্ডের ১২টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদ-নদীর চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, উজানের ঢলে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ বালাডোবার চর, মশালের চর, বতুয়া তলি, মুসার চরের শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। উলিপুর উপজেলার সাহেবের আগলা ইউনিয়নের মাঝের চর, নামা জাহাজের আগলা, ২৭ দাগের চরের অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া যাত্রাপুর ইউনিয়নের অষ্টআশির চর, ঝুনকার চর, খেওয়ার আলগার চর, পোড়ারচরের অর্ধশতাধিক ও দুধকুমার নদ অববাহিকায় ঘোগাদহ ইউনিয়নের রসূলপুর, চর রাউলিয়া ও প্রথম আলো চরের দুই শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ প্রথম আলোকে জানান, জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৩৮৭ মেট্রিক টন চাল, ১০ লাখ ৫০ হাজার নগদ টাকা ও ৩ হাজার ৭০০ প্যাকেট শুকনা খাবার, শিশু খাদ্য বাবদ ২ লাখ ও গোখাদ্য ক্রয় বাবদ ৫ লাখ নগদ টাকা এবং ৯ উপজেলায় ৭৬ মেট্রিক টন চাল ও নগদ টাকা এবং শুকনা খাবার মজুত রয়েছে।