বগুড়ায় হামলার ঘটনায় ছাত্রলীগের ‘বিদ্রোহী’ অংশের বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটির নেতা ও তাঁদের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনায় ‘বিদ্রোহী’ অংশের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ রোববার রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় ‘বিদ্রোহী’ অংশের নেতা ও জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কারা আসামি, তা বলতে রাজি হননি। তবে মামলার বাদী জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা বলেন, মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে তৌহিদুর রহমান ও মাহফুজার রহমানকে। অন্য আসামিরা তাঁদের সহযোগী।
মামলার সংক্ষিপ্ত এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সজীব সাহা ও সাধারণ সম্পাদক আল-মাহিদুল জয়ের নেতৃত্বে মোটরসাইকেলে নেতা-কর্মীরা সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষর সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে যান। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাসভবনের ভেতরে ঢুকলেও নেতা-কর্মীরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি তৌহিদুর রহমান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমানের নেতৃত্বে তাঁদের সমর্থকেরা লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। তাঁরা অধ্যক্ষের বাসভবনের বাইরে অপেক্ষমাণ নেতা-কর্মীদের পেটান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এতে আহত হন সজীব ও জয়ের অনুসারীরা।
অভিযোগ অসত্য দাবি করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান। তিনি বলেন, যাঁরা রাতে কলেজে আসেন, তাঁরা শিবিরের কর্মী। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা বহিরাগত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছেন।
মাহফুজার আরও বলেন, ‘জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে কয়েকটি ছাত্রাবাসে হামলা-ভাঙচুর করা হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে আমরাও থানায় এজাহার দাখিল করেছি।’
সদর থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার সাহা বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ তাঁদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে হামলা-ভাঙচুরের পৃথক একটি অভিযোগ দিয়েছেন। তবে এখনো মামলা হিসেবে অভিযোগটি নথিভুক্ত হয়নি।
৭ নভেম্বর বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলন ছাড়াই সাত বছর পর ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি–সাধারণ সম্পাদকসহ ৩০ জনের নাম আছে। কমিটি ঘোষণার পরপরই শহরের টেম্পল সড়কে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে জড়ো হন পদবঞ্চিত ও কাঙ্ক্ষিত পদ না পাওয়া নেতারা। ওই ভবনে ছাত্রলীগসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সব সংগঠনের কার্যালয়। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা কমিটি প্রত্যাখ্যান করে ওই ভবনের ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করেন পদবঞ্চিত নেতা-কর্মীরা।