বড়াইগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, তুচ্ছ ঘটনায় এক সালিস হয়। মূল অভিযুক্ত সালিসে উপস্থিত না হওয়ায় গ্রামের মাতব্বর বিষয়টি জানতে চান। এ নিয়ে তাঁরা মাতব্বরের ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে সফর আলীর স্ত্রী ও মেয়ে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারেন। পরে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত আরাফাতও ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আরাফাত মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সকালে জানতে পেরেছেন সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দুজনের মৃত্যু হলো। শাহ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ছেলে বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আটক দুজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে আরাফাতের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে। এই ঘটনায়ও মামলা হবে বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরে মেরাতলী গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী জাহের মিয়া, তাঁর ছেলে বাহার মিয়া ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার ঘটনা মুঠোফোনে ভিডিও করেন একই গ্রামের সফর আলীর ছেলে রিফাত মিয়া। এ নিয়ে রিফাতের সঙ্গে জাহের ও বাহারের ঝগড়া হয়। বিষয়টি মীমাংসা করতে শনিবার এশার নামাজের পর জাহেরের বাড়িতে সালিস ডাকা হয়। সালিসে গ্রামের মাতব্বর হিসেবে পরিচিত শাহ আলম, তাঁর ভাই মাহবুব, মাহবুবের ছেলে জিহাদ, স্থানীয় সাইদুর রহমান, আনিস মিয়া, জিয়া মিয়া, রিফাতের বাবা সফর আলী ও ভাই আরাফাত মিয়া উপস্থিত হন। কিন্তু সালিসে রিফাত উপস্থিত হননি।

এলাকার বাসিন্দারা জানান, সালিসের শুরুতে রিফাতের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চান শাহ আলম। এ নিয়ে সফর আলী, সাইদুর ও আরাফাতের সঙ্গে শাহ আলমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তখন সফর আলীর মেয়ে ও স্ত্রী শাহ আলম, মাহবুব, জিহাদের চোখে মরিচের গুঁড়া ছুড়ে মারেন। একপর্যায়ে রিফাতসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। তখন শাহ আলমের লোকজনও হামলায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় চোখে বল্লমের আঘাত পেয়ে শাহ আলম গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে শাহ আলমের ভাই মাহবুব, ছেলে জিহাদ, প্রতিপক্ষের সফর আলীর ছেলে আরাফাত, রিফাতসহ পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হয়েছেন। গতকাল সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় আরাফাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল রাত দুইটা থেকে আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরাফাতের মৃত্যু হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন