বাগেরহাটে স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় দখলের অভিযোগ

বাগেরহাট–১, ২ ও ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের সংবাদ সম্মেলন। আজ বুধবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবেছবি: প্রথম আলো

বাগেরহাটে নির্বাচনী কার্যালয় দখল ও প্রচার–প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন বাগেরহাট–১, ২ ও ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। আজ বুধবার দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এম এ এইচ সেলিম অভিযোগ করে বলেন, ‘বাগেরহাট–২ (সদর ও কচুয়া) আসনে আমাদের নির্বাচনী প্রচার–প্রচারণায় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী বাধা দিচ্ছে। ষাটগম্বুজ ইউনিয়নসহ বিভিন্ন স্থানে আমাদের প্রচারণার মাইক ঢুকতে দিচ্ছে না, ভাঙচুর করেছে এবং নারীদের হুমকি দিচ্ছে। সর্বশেষ গত রাতে সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজার এলাকায় আমার নির্বাচনী অফিস দখল করেছে। সেখানে আমার ঘোড়া প্রতীকের ব্যানার নামিয়ে জাকির সাহেবের (ধানের শীষ) ব্যানার লাগিয়ে দরজায় তালা দেওয়া হয়েছে। এর আগে আমার কর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটেছে।’

এসব বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছেন উল্লেখ করে এই প্রার্থী বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কোথায়? আমরা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার চেয়ে পাচ্ছি না। আমি বলতে চাই, সরকার যেন তাদের কঠোর হস্তে দমন করে।’

বাগেরহাট–২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর সমালোচনা করে এম এ এইচ সেলিম বলেন, ‘এখানে যারা ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতেছে, তারা মনে করতেছে, ক্ষমতায় বসে আছে। তা না হলে এত কিছু দখল করতে পারে নাকি?’

সেলিমের দাবি, ‘মানুষ এখন ব্যক্তি দেখে ভোট দেয়। আমি না থাকলে এখানে কনফার্ম জামায়াত পাস করবে। যাঁরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষের লোক, তাঁরা আমাকে ভোট দেবেন।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানের শীষের প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জাবেদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘যাত্রাপুরের ওই অভিযোগ মোটেই সত্য নয়। আমাদের কেউ সেখানে যায়নি। দোকানমালিকের অনুমতি ছাড়া তাঁরা সেখানে কার্যালয় করেছেন। এ জন্য দোকানমালিকের লোকজন ওইটা সরিয়ে দিয়েছে।’

আরও পড়ুন

পাল্টা অভিযোগ তুলে জাবেদ হোসেন বলেন, ‘ঘোড়া প্রতীকের লোকজন গোটাপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আমাদের (ধানের শীষ) ব্যানার–পোস্টার একাধিকবার ছিঁড়ে ফেলেছে; বিভিন্ন স্থানে আমাদের নেতা–কর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। এসব ঘটনায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আমরা পাঁচটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘কিছু পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যেগুলো লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলো ইলেকট্রনিক ইনকোয়ারি কমিটিতে পাঠিয়েছি। আমাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সেখানে গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন