অভিযোগে চিকিৎসক রাশেদুল আমীর উল্লেখ করেন, ১৭ সেপ্টেম্বর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে তাঁর মাকে স্বজনেরা হাসপাতালে ভর্তি করাতে নিয়ে যান। জরুরি বিভাগে ভর্তির জন্য তাঁদের কাছে ২৫০ টাকা দাবি করা হয়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মা পরিচয় জানতে পেরে তাঁরা ভর্তি বাবদ ৫০ টাকা নেন। যদিও হাসপাতালে নির্ধারিত ভর্তি ফি ২৫ টাকা এবং সরকারি কর্মকর্তার মা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী হিসেবে ভর্তি ফি না নেওয়ার কথা।

অভিযোগে ওই চিকিৎসক বলেন, ভর্তি-পরবর্তী কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মাকে নেওয়া হলে সেখানে কর্মরত দুজন জোর করে তাঁর (চিকিৎসক) ব্যক্তিগত সহকারীর কাছ থেকে ২০০ টাকা নেন। এ সময় চিকিৎসকের নাম-পরিচয় ও রোগী সম্পর্কে জানানো হলে তাঁরা বলেন, ‘স্যারের মা হোক আর যে–ই হোক, টাকা দিতে হবে।’ পরবর্তী সময়ে তিনি রাতে হাসপাতালে যাওয়ার পর মায়ের শয্যার পাশে অবস্থানকালে সিসিইউতে কর্মরত ওয়ার্ডবয় পরিচয়ধারী মাসুদ নামের এক ব্যক্তি তাঁর কাছে সরাসরি টাকা দাবি করেন।

এ ঘটনা তাঁর কাছে ‘মানসিক পীড়াদায়ক ও অপমানজনক’ বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি।

রাশেদুল আমীর অভিযোগে লিখেছেন, ‘আমি নিজে হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা হয়েও যদি হয়রানির শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা তো সহজেই অনুমেয়।’ অভিযোগের বিষয়টি যথাযথ অনুসন্ধান করে হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের হয়রানি বন্ধ এবং সেবার মান বাড়াতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

অভিযুক্ত মাসুদ হোসেন ও ঝর্ণা বেগমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক শরীফুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, এ ঘটনায় তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন