গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে লাখাই উপজেলার বামৈ বাজারে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে কর্মী সমাবেশ চলছিল। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ মিয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক জি কে গউছ। সেখানে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ সেখানে এসে দ্রুত সমাবেশ শেষ করার তাগিদ দিলে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও বিএনপির নেতা–কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষে পুলিশ বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে পুলিশের আটজন সদস্য ও বিএনপির অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।

বিএনপির নেতা জি কে গউছ বলেন, সিলেটে গণসমাবেশ সফল করতে গতকাল সন্ধ্যায় লাখাইয়ের বামৈ বাজারে দলীয় কার্যালয়ে কর্মী সমাবেশ চলছিল। এ সময় হঠাৎ লাখাই থানার একদল পুলিশ ওই কার্যালয়ে অভিযান চালায়। তখন পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন। পরে পুলিশ নেতা-কর্মীদের গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। এ সময় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ মিয়াকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। মূলত সিলেটের জনসমাবেশে বাধা দেওয়ার জন্যই পুলিশ পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে। আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের হয়রানি করছে।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুনু মিয়া বলেন, বিএনপির অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশের ওপরই তারা প্রথম হামলা চালিয়েছে। এতে সাত-আটজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। এ কারণে ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা হয়েছে।

এ দিকে গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সমাবেশ চলাকালে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় গতকাল রাতে বিএনপির শতাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।

নবীগ‌ঞ্জে গ্রেপ্তার ৬

নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর ছয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মধ‌্যরা‌তে উপজেলা শহরের নয়াবাজার এলাকায় বিএনপির এক নেতার বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নবীগঞ্জ উপ‌জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শিহাব আহমদ চৌধুরী, নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এনাম উদ্দিন আহমদ, নবীগঞ্জ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মকবুল হোসেন চৌধুরী, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী নেতা বকুল আহমদ, গজনাইপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহ মুস্তাকিন ও নবীগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী শনিবার সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশকে ঘিরে দলটির প্রস্তুতি সভা থেকে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মো. ডালিম আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাতে বিএনপির নেতা শিহাব আহমদ চৌধুরীর বাসায় তাঁরা সরকারবিরোধী বৈঠক করছিলেন। সেখান থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া বলেন, সিলেটে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ বন্ধের উদ্দেশ্যে পুলিশ নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাঁদের হয়রানি করছে। এতে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।