রাজশাহী মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার ৪ ঘণ্টার মাথায় ডেঙ্গু আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু

ডেঙ্গু
প্রতীকী ছবি

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশু মারা গেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) সে মারা যায়। তাকে হাসপাতালে মাত্র চার ঘণ্টা আগে এনে ভর্তি করা হয়েছিল। এ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি মৌসুমে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চার জনের মৃত্যু হলো। আজ মঙ্গলবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

ওই শিশুর নাম শামভিল আহমেদ (১০)। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শামভিলের বাবার নাম মোহাম্মদ আলী। তিনি স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক।

হাসপাতালের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শামভিলকে হাসপাতালের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার পর ভর্তি করা হয়। সে ৬ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিল। সঙ্গে বমিও করছিল। তার শারীরিক অবস্থা জটিল হওয়ায় তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভোর সাড়ে চারটার দিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ভোর পৌনে সাতটার দিকে সে মারা যায়। তার ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র চিকিৎসক শংকর কে বিশ্বাস বলেন, অনেক সময় মনে করা হয় জ্বর নেই, মানে ডেঙ্গু সেরে গেছে। এটা একেবারেই ঠিক নয়। তাকে চিকিৎসার মধ্যেই রাখতে হয়। ডেঙ্গু খুব দ্রুত পরিস্থিতি খারাপ করে ফেলে। শিশু শামভিলের ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে তাকে আনা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে কথা হয় শামভিলের মামা গোলাম ফারুকের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁর বোনের একমাত্র ছেলে ছিল। শামভিল একটি মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। হঠাৎ করে কয়েক দিন আগে জ্বর আসে। ডেঙ্গু ধরা পড়লে চিকিৎসাও করা হয়। সবকিছু ঠিক ছিল। জ্বরও ছিল না। গত রোববার বিকেলে হঠাৎ বমি করে। পর দিন সোমবার সকালে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে আবার ঠিক হয়ে যায়। বিকেলে আবার বমি করে। আবার ঠিক হয়ে যায়। পরে তাকে সন্ধ্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে যাওয়ার সময় শামভিল কিছু পথ হেঁটেই যায়। হাসপাতালে ভর্তির পর কাঁপুনি শুরু হয়। বমিও করে। পরে সেখান থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। আজ বিকেলে তাকে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ২৫০ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন ২২৭ জন। হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৯ জন। বাকি চারজন মারা গেছেন। ভর্তি হওয়া রোগীদের অর্ধেকের বেশি চাঁপাইনবাবগঞ্জের।