এ সময় অন্যরা রাশেদ আলীকে একটি মোটরসাইকেলে তুলে বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যেতে চাইলে তাঁদের ওপর লাঠিসোঁটা দিয়ে হামলা করা হয়। এতে মাথার পেছনে আঘাত লেগে আসাদুল্লাহ সাগর মাটিতে পড়ে যান এবং আরিফ হোসেনও আহত হন। পরে বাকিরা আহত ব্যক্তিদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাঁদের পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আসাদুল্লাহর অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

নোমান হাসান বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের আদেশ অমান্য করে গত ২০ জুলাই বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। কেন্দ্রের নির্দেশনা মেনে আমি সেই সম্মেলনে উপস্থিত হইনি এবং ওই কমিটির অনুমোদনপত্রে স্বাক্ষর করিনি। এ জন্যই হয়তো তাঁদের ক্ষোভ ছিল। হামলার বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবায়েদ হুসেন মুঠোফোনে বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান হাসান বোদায় এসেছেন জেনে তাঁরা তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যান। যদিও তিনি তাঁদের না জানিয়েই এসেছিলেন। তাঁকে স্লোগান দিয়ে অভ্যর্থনা জানানোর পর তাঁর সঙ্গে কুশল বিনিময় হচ্ছিল। এ সময় নোমান হাসানের সঙ্গে আসা কয়েজন নেতা-কর্মীর সঙ্গে তাঁদের সঙ্গে থাকা কর্মীদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁরা তা থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পঞ্চগড় থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যেতে শুরু করলে তাঁরা পড়ে গিয়ে আহত হন। তাঁরা কারও ওপর হামলা বা মারধর করেননি।

বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুজয় কুমার রায় বলেন, গতকাল রাতে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নোমান হাসানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিয়ে দ্রুতগতিতে উপজেলা শহরের প্রামাণিকপাড়া এলাকায় যাচ্ছিলেন। এ সময় বোদা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিনের দোয়া মাহফিল চলছিল। বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা বলেন, কারা এভাবে স্লোগান দিয়ে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দিচ্ছে, তা দেখতে তাঁরা শিমুলতলী এলাকায় যান। এ সময় দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে বাগ্‌বিতণ্ডাও হয়। এ সময় পঞ্চগড় থেকে আসা দু-একজন মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে নিয়ে তাঁরা বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। এতে বোদা উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাও সহায়তা করেছেন বলে জানতে পারেন। খবর পেয়ে তাঁরাও হাসপাতালে ছুটে যান। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ এখনো অভিযোগ করেনি।