ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. শহিদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকাল থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত তাঁদের মাত্র একটি গাড়ি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। অন্য দিন একই সময়ে পাঁচ থেকে সাতটি বাস মাগুরা ছেড়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘নতুন ভাড়ার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে কোম্পানি। যেসব যাত্রীর টিকিট আগে কাটা ছিল, শুধু তাঁদের জন্য দু-একটি বাস ছাড়ছে।’

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার সহকারী জালাল মিয়া বলেন, বাস আসছে কম। সকাল থেকে তিন ভাগের এক ভাগ বাসও টার্মিনালে আসেনি। যাত্রীর সংখ্যাও তুলনামূলক কম।

তবে বেশ কিছু পরিবহন কোম্পানির বাসের সংখ্যা স্বাভাবিক আছে। ঢাকাগামী রয়েল এক্সপ্রেস ও পূর্বাশা পরিবহনের কাউন্টারে কথা বলে জানা গেছে, তাদের বাসের সংখ্যা প্রায় স্বাভাবিক আছে। সকাল থেকে দুই কোম্পানির ১০ থেকে ১২টি করে বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।

রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার বিপুল কুমার দাস প্রথম আলোকে বলেন, মালিকপক্ষ থেকে টিকিটপ্রতি ২০০ টাকা বাড়াতে বলেছে। আপাতত তাঁরা ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নিচ্ছেন। মাগুরা থেকে নন-এসি চেয়ারকোচে ৫০০ টাকার ভাড়া ৬০০ করে নিচ্ছেন। এটা ৭০০ টাকা হবে বলে জানতে পেরেছেন।

কয়েকটি কাউন্টারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এসি গাড়ির ক্ষেত্রে আসনপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। বেশি ভাড়া নিয়ে যাত্রীরা নানা রকম আপত্তি জানাচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে যাত্রীদের বুঝিয়ে–শুনিয়ে তাঁরা টিকিট বিক্রি করছেন।

আকস্মিকভাবে ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মাগুরা থেকে ঢাকার সাভারের উদ্দেশে রওনা হওয়া মিনারা বেগম। হাসপাতালে ভর্তি মেয়েকে দেখতে জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে সাভারে যেতে হবে। সঙ্গে আছেন মিনারার দুই ছেলে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ছেলের সঙ্গে টার্মিনালে এসে জানলেন, ১৫০ টাকা করে ভাড়া বেড়েছে। দুই ছেলেসহ আধা ঘণ্টা বসে আছেন। বাস পেলেও ভাড়া অনেক বেশি। তিনজনে এত ভাড়া দিয়ে কীভাবে যাব? টাকা তো বেশি নেই।

default-image

জামাল হোসেন নামের আরেক যাত্রী যাবেন নারায়ণগঞ্জে। তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ যাব। ভাড়া নিচ্ছে ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা। কেউ কিছু বলছে না। কীভাবে এত টাকা দিয়ে যাব তাই ভাবছি।’

দূরপাল্লার পাশাপাশি ভাড়া বেড়েছে আঞ্চলিক সড়কে চলাচল করা বাসেও। মাগুরা থেকে যশোরগামী বাসে জনপ্রতি ২০ টাকা করে ভাড়া বেশি নেওয়া হচ্ছে। ভায়না মোড়ে বাস কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা নবাব উদ্দিন জানান, মাগুরা থেকে যশোরের ভাড়া গতকাল পর্যন্ত ৮০ টাকা করে ছিল। সকাল থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। কাল রোববার থেকে সম্ভবত ১১০ টাকা করে হবে।

ডিজেল ও পেট্রলচালিত তিন চাকার অটোরিকশায়ও ভাড়া বেড়েছে। মাগুরা থেকে শ্রীপুর, গোপালপুরসহ বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করা গাড়িতে স্থানভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা করে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন