ঘটনাস্থল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পদ্মায় ভেসে উঠল নিখোঁজ ছাত্রদল নেতার মরদেহ
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির (৩২) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার ৩৬ ঘণ্টা পর আজ রোববার সকাল নয়টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদী থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাত নয়টার দিকে ভেড়ামারায় হার্ডিঞ্জ সেতুর একটি পিলারে বাল্কহেডের ধাক্কায় পদ্মা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হন রাকিবুজ্জামান। তিনি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব।
ঈশ্বরদীর লক্ষ্মীকুণ্ডা নৌ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকাল নয়টার দিকে ঈশ্বরদীর কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় এক ব্যক্তি পুলিশকে খবর দেন। নৌ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করেন। রাকিবুজ্জামানের পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি তাঁর বলে শনাক্ত করেছেন। মরদেহ ভেড়ামারা প্রান্তে নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লাশটি পাওয়া যায়।
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিরুল আরাফাত ও ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসন ও নৌভ্রমণে যাওয়া যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাতলাগাড়ি এলাকা থেকে ১২৩ জনের একটি দল বাল্কহেডে করে নৌভ্রমণে বের হন। ভেড়ামারার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে ফেরার পথে রাত নয়টার দিকে তাঁরা হার্ডিঞ্জ সেতু এলাকায় পৌঁছান। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে বাল্কহেডটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর ৪ নম্বর পিলারে ধাক্কা দেয়। এতে তিনজন নদীতে পড়ে যান। পরে অন্য যাত্রীরা লিটন ও ওহাব নামের দুজনকে জীবিত উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন। ওই ঘটনায় রাকিবুজ্জামান নিখোঁজ ছিলেন। ঘটনার পর ঈশ্বরদী ও ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস এবং নৌ পুলিশের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।