জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার তাঁর বক্তৃতায় জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনী এলাকায় ভোট হওয়া পর্যন্ত রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিএনপি উপনির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা করলে, বানচাল বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করার জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান আল মামুন।

১ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে উপনির্বাচন। এ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন আবদুস সাত্তার ভূঁইয়া। গত ১১ ডিসেম্বর দলীয় সিদ্ধান্তে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরে দলীয় পদ-পদবি ছেড়ে উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন আবদুস সাত্তার। এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি আওয়ামী লীগ। বরং নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁর সঙ্গে দেখা গেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা-কর্মীকেও।

কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক রুমিন ফারহানাও কয়েক দিন আগে আশুগঞ্জ উপজেলায় এক সেমিনারে সরকার ও সাত্তার ভূঁইয়ার সমালোচনা করেন। তিনি বলে যান, সাত্তারের পক্ষে বিএনপির কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় কাজ করলে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।

আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় উপস্থিত থাকা একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী প্রথম আলোকে বলেন, ১৫ জানুয়ারি দুপুরে আশুগঞ্জ উপজেলার হোটেল রাজমনিতে এক সেমিনারের আয়োজন করে উপজেলা বিএনপি। সেখানে বিএনপির নেত্রী রুমিন ফারহানা বক্তব্য দেন। তিনি উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার মতো একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদকে নিয়ে আপত্তিজনক কথাবার্তা বলেন এবং তাঁর সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি আওয়ামী লীগ ও বর্তমান সরকারের উদ্দেশে নানা কথাবর্তা বলেন। এ জন্যই নির্বাচনের সময় পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার প্রথম আলোকে বলেন, রুমিন ফারহানাকে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

উপনির্বাচনে কি বিএনপির দলছুট নেতা উকিল আবদুস সাত্তার ভূঁইয়ার পক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা কাজ করছেন, এমন প্রশ্নে আল মামুন বলেন, এখানে বিএনপি ভোট বর্জন করেছে। তবে বিএনপি ও তাঁদের নেতা-কর্মীরা ভোট বানচাল করতে পারে। তা হলে আওয়ামী লীগ তা প্রতিহত করবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো দলীয় প্রার্থী না থাকলেও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সহযোগিতা করবে। সুষ্ঠু ভোটে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে আওয়ামী লীগ।

উপজেলা আওয়ামী লীগের মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের আহমেদ, উপনির্বাচনে দলের নির্দেশে মনোনয়ন প্রত্যাহারকারী জেলা আওয়ামী সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঈন উদ্দিন, কেন্দ্রীয় স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হেফজুল বারী, জাকির হোসেন, মোশারফ হোসেনসহ অনেকে।