পদ্মার বড় বড় মাছ বিক্রি করা সেই চান্দু মোল্লার আড়তে হামলা, দুজন আহত

হামলার পর এলমেল পড়ে আছে চান্দু মোল্লা মৎস ভাণ্ডারের জিনিসপত্র। শনিবারের ছবিপ্রথম আলো

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ধরা পড়া বড় বড় মাছ কেনাবেচা করেন মৎস্য ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা। বারবার তিনি উঠে আসেন সংবাদমাধ্যমে। সেই চান্দু মোল্লার আড়তে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। আহত করা হয়েছে তাঁর দুই স্বজনকে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে এ হামলার ঘটনায় চান্দু মোল্লা সাতজনকে আসামি করে গোয়ালন্দ থানায় মামলা করেছেন। মামলায় এজাহারনামীয় আসামি রমজান শেখ (৪০), জয়নাল শেখ (৩৭) ও আমিন মণ্ডল (৩৭)। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও তিন–চারজনকে।

আরও পড়ুন

মামলার তথ্য নিশ্চিত করে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম শনিবার দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় অবস্থিত চান্দু মোল্লা মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী চান্দু মোল্লা জানান, শুক্রবার বেলা একটার দিকে তাঁর আড়তে রমজান শেখ মাছ বিক্রি করতে আসেন। এ সময় মাছের দরদাম নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয়। পরে তিনিও চলে যান, রমজানও চলে যান।

মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা
ফাইল ছবি

চান্দু মোল্লার ভাষ্য, তাঁর অনুপস্থিতিতে খালাতো ভাই মমিন মণ্ডল ও ভাগনে শাহাদৎ ব্যাপারী আড়ত দেখাশোনা করেন। কথা–কাটাকাটির জের ধরে বেলা দেড়টার দিকে রমজান তাঁর ছোট ভাই জয়নাল শেখ ও স্থানীয় আমিন মণ্ডলসহ কয়েকজন দেশি অস্ত্র নিয়ে আড়তে হামলা চালান। এ সময় মমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। ঠেকাতে গেলে ভাগনে শাহাদৎকেও মারধর করে আহত করা হয়। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সরে যান। মমিন ও শাহাদৎকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আরও পড়ুন

অভিযোগের বিষয়ে রমজান শেখ বা তাঁর লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁদের পাওয়া যায়নি। একাধিক সূত্রে জানা যায়, মামলার সংবাদ পাওয়ার পর আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মাসুদ মোল্লা, সোহেল মোল্লা, লালন গাছীসহ কয়েকজন বলেন, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনায় তাঁরা আতঙ্কের মধ্যে আছেন। এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।

চান্দু মোল্লা বলেন, ‘একটি পক্ষ আমার ব্যবসায়িক সুনাম নষ্ট করতে আড়তঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর লুটপাট করেছে। হামলাকারীরা যাওয়ার সময় আড়তের ককশিট বাক্সে রাখা ব্যবসার প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট করে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ মামলা নিলেও এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার বা আটকও করতে পারেনি।