কুষ্টিয়া পৌরসভা কার্যালয়ের তছনছকে গভীর ষড়যন্ত্র বললেন মেয়র
কুষ্টিয়া পৌরসভায় গত বৃহস্পতিবার প্রকাশ্যে পুলিশের সামনে থেকে দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার মাত্র এক দিন পরই মেয়র আনোয়ার আলীর কার্যালয়ে হানা দিয়ে সবকিছু তছনছ করেছে দুর্বৃত্তরা। দরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার সঙ্গে কার্যালয়ে হানা দেওয়ার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, সেটা পুলিশ তদন্ত করবে বলে জানিয়েছেন মেয়র আনোয়ার আলী।
এ ছাড়া কার্যালয় তছনছের ঘটনাটিকে ‘গভীর যড়যন্ত্র’ উল্লেখ করে যারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মেয়র। আজ রোববার বেলা একটায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় তাঁর পাশে পৌরসভার একাধিক কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, গতকাল শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় মেয়রের কার্যালয়ে হানা দিয়ে তছনছ করে দুর্বৃত্তরা। মেয়রের কার্যালয়ে হানা দিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করেছে। মেয়রের কার্যালয়ে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও সংরক্ষণের দুটি ডিডিআর যন্ত্র ও একটি ক্যামেরা চুরি গেছে। এ ছাড়া কার্যালয়সহ তিনটি কক্ষের একাধিক আলমারি ভাঙা ও একটি সিন্দুক খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বেশ কিছু ফাইল ও কাগজপত্র তছনছ করা হয়েছে। পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
মেয়রের কার্যালয়ের অফিস সহকারী প্রণব বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, সকাল আটটার দিকে তিনি জানতে পারেন, মেয়রের কার্যালয়ের প্রধান ফটক ভাঙা। দ্রুত তিনি পৌরসভায় ছুটে যান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আসেন। তাঁদের সঙ্গে ভেতরে ঢুকে দেখতে পান, মেয়রের কক্ষের সিসিটিভি ক্যামেরা নিচের দিকে বাঁকা করে রাখা। পুরো পৌরসভায় যত সিসিটিভি ক্যামেরা আছে, তার ভিডিও সংরক্ষণের ডিডিআরের দুটি যন্ত্রও খোয়া গেছে।
প্রণব বিশ্বাস আরও বলেন, মেয়রের টেবিলের ড্রয়ার ও কাগজপত্র এলোমেলো এবং মেঝেতে ছড়ানো-ছিটানো ছিল। মেয়র যে চেয়ারে বসেন, সেই চেয়ার উল্টো দিকে ঘুরিয়ে রাখা। মেয়রের কক্ষের সঙ্গে যুক্ত আরেকটি কক্ষ আছে। ওই কক্ষেও তছনছ করা হয়েছে। সেখানে একটি আলমারির দরজা ভাঙা। তার পাশে একটি সিন্দুক আছে। সেটাও চাবি দিয়ে খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ভেতরে থাকা একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা পাওয়া যাচ্ছে না।
কার্যালয়ের নিচতলায় পেছনের দিকে গ্রিল ভেঙে দুর্বৃত্তরা ওপরে উঠেছে বলে মনে করছেন পৌর কর্মকর্তারা। গতকাল রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে ছিলেন শহিদুল ইসলাম, বিষ্ণুপদ সাহা ও শহর আলী নামের তিনজন প্রহরী। তিনজনই প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁরা কেউই রাতে কোনো শব্দ শুনতে পাননি। এমনকি কাউকে দেখেননি। তাঁদের তিনজনকে পৃথক পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মেয়র
বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন পৌর মেয়র আনোয়ার আলী। দুই ঘণ্টা পর বেলা একটায় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। তাঁর ভাষ্যমতে, ১৫২ বছরের ইতিহাসে এবার প্রথম পৌর কার্যালয়ে এমন ঘটনা ঘটল। আর্থিক ক্ষতি না হলেও পৌরসভার ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে (মেয়র) হেয় করতে এ ঘটনা ঘটতে পারে। যদি শনাক্ত না করা যায়, তাহলে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে।
মেয়র ঘটনাটিকে গভীর যড়যন্ত্রের অংশ দাবি করে বলেন, হয়তো বড় মাথার বুদ্ধিতে এ ধরনের কাজ হয়েছে। জনগণের অফিসে এ ধরনের কাজ অত্যন্ত গর্হিত। তারা কাজটি ভালো করেনি। এ জন্য তাদের মূল্য দেওয়া লাগবে। বিবেকের তাড়নায় তাদের ভুগতে হবে এক দিন। কারও নাম না উল্লেখ করে আনোয়ার আলী বলেন, আজ হোক বা কাল, তাদের মূল্য দেওয়াই লাগবে।
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ‘আমাকে সরাতেই পরিকল্পনা করে এটি ঘটানো হয়েছে। তবে এভাবে সরানো সম্ভব নয়। সরাতে হলে আমাকে পাগল বা দুর্নীতিপরায়ণ প্রমাণ করতে হবে। আমি এখনো পাগল হইনি এবং কোনো দুর্নীতিও করিনি।’
কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। ঘটনাটি খুবই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ মামলা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।