রংপুরে ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেওয়া সেই শিক্ষক গ্রেপ্তার

হাতকড়া
প্রতীকী ছবি

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেওয়ার অভিযোগে গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন অভিভাবকসহ স্থানীয় মানুষ। অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তির দাবিতে গতকাল তাঁরা বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় গতকাল ওই বিদ্যালয়ের নির্ধারিত অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

আরও পড়ুন

বদরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ওই ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে গতকাল রাতে ওই শিক্ষককে আসামি করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। রাতেই পৌর শহরে অভিযান চালিয়ে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীকে তাঁর কক্ষে ডেকে শিক্ষাসামগ্রী ও জামাকাপড় কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং এ কথা কাউকে বললে পরীক্ষায় অকৃতকার্য করানোর হুমকি দেন। মাঝেমধ্যে সবার আগে ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ে যেতে বলতেন। এ সময় কক্ষে ডেকে নিয়ে একই কায়দায় শ্লীলতাহানি করতেন। ১০ জুন অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাবার মুঠোফোনে কল করে ওই ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। ছাত্রী তা মুঠোফোনে রেকর্ড করে স্বজনদের জানায়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ১০ জুন মুঠোফোনে ওই ছাত্রীকে ‘কুপ্রস্তাব’ দেন। গত বুধবার রাতে সেই কল রেকর্ড ফাঁস হয়। পরের দিন বৃহস্পতিবার সকালে এলাকাবাসী ও অভিভাবকেরা বিদ্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাশপিয়া তাসরিন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম ও থানার ওসি হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত হতে এবং শ্রেণিকক্ষের তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তাঁরা তালা খুলবেন না বলে কর্মকর্তাদের জানান। এ কারণে গতকাল বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। বেলা দুইটার দিকে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই তিন কর্মকর্তা।