‘তোমরা কম্বলখান দিয়া খুব উপকার করিলেন’
‘জারের রাইতত কষ্ট পাছিনু। কম্বলখান দিয়া তোমরা বাপের কাম করিলেন। অ্যালা আরামত ঘোমাবা পারিমো।’ প্রথম আলো ট্রাস্টের কম্বল পেয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি জানাচ্ছিলেন অশীতিপর আইতন বেওয়া। বললেন, ‘মোর ছুয়া (সন্তান) নাই। কাহ (কেউ) দেখিবারও নাই। তোমরায় মোর ছুয়ার কাজ করিলেন।’ এ কথা বলেই কেঁদে ফেললেন তিনি।
আজ শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের সিংগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে প্রথম আলো ট্রাস্টের উদ্যোগে ও বন্ধুসভার সদস্যদের সহযোগিতায় বিতরণ করা কম্বল নিতে এসেছিলেন আইতন বেওয়ার মতো অনেকে। সেখানে ২৩৫ জন অসহায় ও শীতার্ত মানুষকে কম্বল দেওয়া হয়েছে। কম্বলগুলো দিয়ে সহযোগিতা করে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।
এর আগে বন্ধুসভার সদস্যরা গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া, খলিশাগুড়ি, মোলানী, চাপাগুরি, মাঠপাড়া, আদিবাসীপাড়া গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অসহায় শীতার্ত মানুষের তালিকা তৈরি করেন। পরে তাঁদের ২৩৫ জনের হাতে কম্বল বিতরণের স্লিপ তুলে দেওয়া হয়। সেই স্লিপ নিয়ে শীতার্ত ও বয়স্ক নারী-পুরুষেরা সিংগিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে কম্বল নিতে হাজির হন। যাঁরা কম্বল নিতে আসতে পারেননি, তাঁদের বাড়িতে কম্বল পৌঁছে দেন বন্ধুসভার সদস্যরা।
কম্বল পেয়ে খুশি খলিশাগুড়ি গ্রামের বৃদ্ধা বুধারী রানী। এই অশীতিপর নারী বলেন, ‘এইবার শীত বেশি পড়িছে। রাইতত ঠান্ডা বেশি নাগে। কুয়াশা আর বাতাসত টিকা যাছেনি। তোমরা কম্বলখান দিয়া খুব উপকার করিলেন। ভগবান তোমার ভালো করিবে।’
কম্বল পেয়ে সিংগিয়া গ্রামের রোজিনা বেগম বলেন, ‘মাটির দেয়াল আর টিনের চালার বাড়িত থাকি। ঘরত থাকিলেও জার নাগে। মেয়েটা ঘুমাবার পারে না। এই কম্বল উরিমো (গায়ে দেব)। আর জার করিবে নি।’
অন্যের জমিতে কাজ করেন চাপাখুড়ি গ্রামের কান্তা রানী (৬৭)। রাতে ছাপড়া ঘরের টিন দিয়ে টপটপ করি কুয়াশা পড়ে। এতে কাথা ভিজে যায়। কম্বল পেয়ে তিনি বেজায় খুশি। বললেন, ‘কম্বলখান উরিমো (গায়ে দেব), আরামে ঘুমাব।’
কম্বল পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে সিংগিয়া গ্রামের রাবেয়া বেগম (৬৬) বললেন, ‘আমারা গরিব মানুষ। কম্বল না থাকায় শীতে কষ্ট হয়। কম্বল কেনার টাকাও ছিল না। শেষে ভাইয়ের বাড়ি গিয়া একটা কম্বল কিনে নিছি। ওইটাতেও শীত যায় না। তোমরা আমাকে কম্বল দিলেন। আমি খুব খুশি।’
কম্বল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আলিম উদ্দিন, ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষক নাসরিন জাহান, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা হাবিব মো. আহসানুর রহমানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আরও উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও বন্ধুসভার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহসভাপতি রাবেয়া হাসি, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শিহাব, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তপু রায়, প্রচার সম্পাদক সিয়ামুর রশিদ, পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক ফাহানা উর্মি, সদস্য মামুনুর রশিদ, প্রথম আলোর ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি মজিবর রহমান খান প্রমুখ।
শীতার্তদের সহায়তায় এগিয়ে আসতে পারেন আপনিও।
সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে।
হিসাবের নাম: প্রথম আলো ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল
হিসাব নম্বর: ২০৭২০০০০১১১৯৪
রাউটিং নম্বর: ০৮৫২৬২৫৩৯
ব্যাংক: ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা
বিকাশ: ০১৭১৩-০৬৭৫৭৬ (মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট)
এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপের Donation অপশন ব্যবহার করেও অনুদান পাঠাতে পারেন।