মামলা না নেওয়ার বিষয়ে আজ বৃহস্পতিবার বেলাব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহম্মেদের মুঠোফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপে কয়েক দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন ধরেননি।

দ্রুত মামলাটি নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হোক। হাসপাতালের মতো সরকারি সম্পত্তিতে যাঁরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া দরকার।
মো. নূরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন, নরসিংদী

বেলাব থানার একটি সূত্র প্রথম আলোকে জানিয়েছে, অভিযোগটি ছাত্রলীগ নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এতে সায় দেয়নি। পরে বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুনকে জানানো হয়। তিনি আগামীকাল শুক্রবার দুই পক্ষকে নিয়ে বসবেন। এরপরই মামলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আল আমিনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনিও ফোন ধরেননি।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন মো. নূরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রলীগের হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় তাঁদের দেওয়া লিখিত অভিযোগটি এখনো পুলিশ মামলা হিসেবে নেয়নি বলে জেনেছেন। তাঁরা চান, দ্রুত মামলাটি নিয়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হোক। হাসপাতালের মতো সরকারি সম্পত্তিতে যাঁরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন, তাঁদের শাস্তি হওয়া দরকার। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অবগত আছেন। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর কী হয়, দেখা যাক।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে হঠাৎ দুই তরুণ হাসপাতালে ঢুকে প্রবেশমুখের সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে দেন। এর মধ্যেই আরও কয়েকজন এসে আরও কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৪০-৫০ জন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী হাসপাতালে আসেন। তাঁদের দেখে হাসপাতালের লোহার গেটটি তালাবদ্ধ করে দেওয়া হয়। পরে তাঁরা গেট ধাক্কাতে ধাক্কাতে বাঁকিয়ে দেন এবং ইট ছুড়ে গেটসংলগ্ন কাচের জানালা ভেঙে দেন। এ সময় তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের হুমকি দেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা হাসপাতালে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনার জেরে গতকাল দিনভর হাসপাতালটিতে চিকিৎসাসংক্রান্ত সব সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে মানববন্ধন করেন চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকর্তা–কর্মচারীরা।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহসানুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, সেখানে ছাত্রলীগের মধ্যে গ্রুপিং আছে। একটি পক্ষ কমিটি ভেঙে দেওয়ার উপলক্ষ তৈরি করতে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। যদি এ ঘটনায় ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকে, তবে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নূর আসাদ-উজ-জামান বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই ৫ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করে গতকাল বিকেলে তাঁরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আজ বিকেল পর্যন্ত সেটি মামলা হিসেবে নেওয়া হয়নি বলেই তাঁরা জানেন। খাবার ও পথ্য সরবরাহের একটি দরপত্র অন্য কেউ পেয়ে যাচ্ছেন—এমন খবরে অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে হাসপাতালটিতে এ হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।