পাকুন্দিয়া বিএনপির ১০৮ নেতা-কর্মীর জামিন

জামিন পাওয়া পাকুন্দিয়া বিএনপির নেতা–কর্মীরা।রোববার দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে
ছবি: প্রথম আলো

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের মামলায় পাকুন্দিয়া বিএনপির আরও ১০৮ নেতা–কর্মী জামিন পেয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামিরা জামিনের আবেদন করলে বিচারক সায়েদুর রহমান খান তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। এই নিয়ে ১৩৭ আসামি জামিন পেলেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার ২৫ জন আসামি এর আগে ৪ অক্টোবর জামিন পান।

আজ জামিন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান আসামি জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আইনজীবী জালাল উদ্দিন। অন্যদের মধ্যে আছেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুর রহমান ও কামাল উদ্দিন, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মারুফ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে বিএনপির তিন নেতা-কর্মীর নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে পাকুন্দিয়ার সৈয়দগাঁও চৌরাস্তা মোড় এলাকায় গত ৩ সেপ্টেম্বর সমাবেশ করে পাকুন্দিয়া বিএনপি। এ সময় তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ একপর্যায়ে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশের ২০ জন সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হন।

এ ঘটনার পরদিন পাকুন্দিয়া থানায় ১৩৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা দেড় হাজারজনকে আসামি করে মামলা হয়। সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায় মামলাটি করেন পাকুন্দিয়া থানার এসআই শাহ কামাল। মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের নামে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি, পুলিশের কাজে বাধাদান এবং সাধারণ জনগণের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ক্ষতিসাধনের মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির অপপ্রয়াসের অভিযোগ আনা হয়।

আদালতে আসামি পক্ষে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মিয়া মো. ফেরদৌস ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, মিজানুর রহমান, সাজ্জাদুল হক, শফিউজ্জামান, জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাসহ অর্ধশত আইনজীবী জামিন শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে ভারপ্রাপ্ত পিপি আবু সাঈদ ইমাম জামিনের বিরোধিতা করেন।

কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, জ্বালানি তেল, পরিবহনভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ তাঁদের নিরীহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে তাঁদের শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। অথচ উল্টো পুলিশ বিএনপির নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা করে। এমনকি মামলার এজহারে যে ১৩৯ জনের নাম উল্লখ করা হয়েছে, তাঁদের মধ্যে দুজন প্রবাসীও রয়েছেন এবং দুজনের নাম দুবার করে আসামির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামি জালাল উদ্দিন বলেন, মামলাটি মিথ্যা ও মনগড়া। এ মামলার আগে ৪ অক্টোবর গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ জন জামিন পান। আসামিদের মধ্যে দুজন প্রবাসে থাকায় ও দুজন অসুস্থ হওয়ার কারণে আজ জামিন শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে পারেনি। এ ছাড়া এ মামলায় বাকি সবারই জামিন হয়েছে। নেতা-কর্মীর জামিন হওয়ায় তাঁরা স্বস্তি বোধ করছেন। আশা করছেন, তাঁরা ন্যায়বিচার পাবেন।