ঝালকাঠিতে বাস দুর্ঘটনায় মা ও বোনকে হারিয়ে মো. রহমাতুল্লাহ (৩৫) এখন নিঃসঙ্গ। গতকাল শনিবার হাসপাতালে
ছবি: প্রথম আলো

ঝালকাঠির রাজপুর উপজেলার খুশবু আক্তার এ বছর রাজাপুর নিজামিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ২৮ জুলাই ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। কিন্তু খুশবুর আর ফলাফল জানা হলো না। গতকাল শনিবার বাস দুর্ঘটনায় খুশবু (১৭) ও তাঁর মা খাদিজা বেগম (৪৩) নিহত হন।

খুশবু আক্তার রাজাপুর উপজেলার নিজামিয়া গ্রামের মৃত নজরুল ইসলাম হাওলাদারের মেয়ে। মা ও বোনকে হারিয়ে মো. রহমাতুল্লাহ (৩৫) এখন নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন। আজ রোববার দুপুরে খুশবুদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় চারদিকে নীরবতা।

আশপাশের লোকজন বলেন, মা-বোনকে হারিয়ে রহমাতুল্লাহ কেঁদেই যাচ্ছেন। বাড়ির পাশেই খাদিজা ও খুশবুকে কবর দেওয়া হয়েছে।

রহমাতুল্লাহ বলেন, তাঁর বাবা নজরুল ইসলাম দুই বছর আগে মারা যান। তাঁরা তিন বোন ও এক ভাই। অপর দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তাঁর মা ও বোন বাড়িতেই থাকত। গতকাল তাঁর মাকে চিকিৎসক দেখানোর কথা ছিল। মাকে নিয়ে খুশবু বরিশালের হাসপাতালে রওনা হয়। আর তিনি (রহমাতুল্লাহ) আগেই সেখানে চলে যান। পরে তাঁর কাছে বাস দুর্ঘটনায় মা ও বোনের মৃত্যুর সংবাদ আসে।

আরও পড়ুন

‘৩০ মিনিট বাসের জানালা দিয়া গলা পর্যন্ত পানিতে মাথা ভাসাইয়া রাখছিলাম’

রহমাতুল্লাহ বলেন, ‘২৮ জুলাই এসএসসির ফলাফল ঘোষণার কথা রয়েছে। কিন্তু আমার বোন ফলাফল জেনে গেল না। বাস ছাড়ার ১০ মিনিট আগেও তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছি। এখন তাঁরা পৃথিবীতে নেই।’

খুশবুর চাচা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, মা-বোনকে হারিয়ে ভাতিজা রহমাতুল্লাহ একা হয়ে গেল। এ শোক রহমাতুল্লাহ কীভাবে সামলাবে?

আরও পড়ুন

প্রবাসফেরত স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি যাচ্ছিলেন খাদিজা, ফিরলেন লাশ হয়ে

এদিকে বাস দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক বলেন, এ দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজনদের পক্ষে কেউ মামলা করতে আগ্রহী নন। তাই পুলিশ বাদী হয়ে এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

থানা-পুলিশ জানায়, গতকাল সকালে ঝালকাঠিতে যাত্রীবাহী ‘বাশার স্মৃতি’ বাস ৬৫ জন যাত্রী নিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশালের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সদর উপজেলার ছত্রকান্দা এলাকার ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদ-সংলগ্ন একটি পুকুরে পড়ে যায় বাসটি। এতে ১৭ জন নিহত ও ৩৪ জন আহত হন।