বন্যার সময় ময়নামতি রবিদাসকে ত্রাণসহায়তা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে ইউএনও ইমরান শাহরিয়ার বলেন, ‘বন্যায় সম্পূর্ণ ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে—এমন কিছু পরিবারকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নতুন ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। ময়নামতির নামটি সেই তালিকায় আছে। যে কারণে আমাদের তালিকায় তাঁর নামটি রাখা হয়নি।’

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তিনি (ময়নামতি) ঘরের জন্যও সহায়তা পাবেন। আপাতত ঘরটি থাকার উপযোগী করতে এই সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ময়নামতি রবিদাসের বাড়ি সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামে। চার শিশুসন্তানের মা ময়নামতি রবিদাসের (৩৫) স্বামী মারা গেছেন পাঁচ বছর আগে। মা-বাবা এবং বড় দুই ভাইও মারা গেছেন।

পেটের দায়ে জুতা সেলাইয়ের কাজ করেন ময়নামতি। এবারের বন্যা তাঁদের মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু কেড়ে নিয়েছে। এখন আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের ঘরে। খেয়ে না খেয়ে দিন যাচ্ছে পরিবারটির।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে সুনামগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ হাজার পরিবারকে ঘরবাড়ি সংস্কারে ১০ হাজার টাকা করে অর্থসহায়তা দেওয়া হয়েছে। সেই সহায়তাও পাননি ময়নামতি। আজ সন্ধ্যায় তিনি বলেন, এই টিন ও টাকা দিয়ে ঘরটি থাকার উপযোগী করবেন। এ জন্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ময়নামতি।

রাজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সালেহ আহমদ বলেন, আজ বিকেলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মানিক মিয়া তাঁকে ফোন করে ময়নামতি রবিদাসকে নিয়ে উপজেলা পরিষদে যেতে বলেন। সেখানে যাওয়ার পর ময়নামতির হাতে দুই বান্ডিল ঢেউটিন, ছয় হাজার টাকা ও টিন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরিবহন খরচ তুলে দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন