ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকদের সার না দেওয়ার তথ্য পেয়েছে তদন্ত কমিটি, ক্যাশ মেমোতে অসংগতি
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে বিসিআইসির সার ডিলার মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়ার অভিযোগ এবং ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত রোববার দুপুরে শিলখুড়ি ইউনিয়নের ধলডাঙ্গা বাজারে মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের গুদামের বেড়া ভেঙে ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যান বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ওই রাতেই পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। পরে প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ধলডাঙ্গা বাজার থেকে কৃষকদের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ডিলারের ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।অমৃত দেবনাথ, ভূরুঙ্গামারীর ইউএনও
বিষয়টি নিশ্চিত করে কমিটির সভাপতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল হক তারেক বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শী, ডিলার ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনওর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও অমৃত দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, ধলডাঙ্গা বাজার থেকে কৃষকদের ২২৫ বস্তা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে কৃষকদের সময়মতো সার না দেওয়া এবং ডিলারের ক্যাশ মেমোতে অসংগতি পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে তাঁকে শোকজ করা হয়েছে।
এদিকে গুদাম ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন মেসার্স শাহ আমানত এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান।
জিডির তথ্য নিশ্চিত করে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।