চিকিৎসক আজাদের চেষ্টায় রাজশাহী মেডিকেলে এল আরও ২৮ কোটি টাকার ওষুধ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আজিজুল হক আজাদছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক মো. আজিজুল হক আজাদের চেষ্টায় আমেরিকান দাতব্য সংস্থা ডিরেক্ট রিলিফ থেকে আরও ২৮ কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ রাজশাহী পৌঁছেছে। বায়োলজিক ড্রাগ অ্যাডালিমুমাবের দ্বিতীয় চালানের ৬৯৬ সিরিঞ্জ ওষুধ আজ বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে পৌঁছেছে।

এর আগে আজিজুল হকের উদ্যোগে তিনটি চালানে ৯৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকার ওষুধ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে। এসব ওষুধ রোগীদের বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। যা প্রয়োগের মাধ্যমে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে সেরে উঠছেন রোগীরা।

অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ল্যাবরেটরি কনফার্মড অ্যাংকাইলোজিং স্পন্ডাইলাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজসহ আরও কিছু অসুখে আক্রান্ত রোগীদের এই অত্যন্ত দামি ওষুধটি বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। এই ওষুধ কোন রোগীর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে, সেটা তিনিই তদারকি করবেন। আমেরিকান বাজারমূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ওষুধের দাম প্রায় ২৮ কোটি টাকা।

এই ওষুধ আনার ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য আজিজুল হক রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

এর আগে গত বছরের নভেম্বরে চিকিৎসক আজিজুল হক এই সংস্থা থেকে বাতের রোগীদের জন্য প্রায় ৩৬ কোটি টাকার ইনজেকশন আনেন। তার আগে আগস্টে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক শীর্ষ শ্রেয়ান হৃদ্‌রোগীদের জন্য আনেন প্রায় ১৭ কোটি টাকার অ্যাল্টেপ্লেস।

আরও পড়ুন

ডিরেক্ট রিলিফ একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থা। এদের প্রধান কাজ হলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসহায়তা পৌঁছে দেওয়া। সংস্থাটি নগদ অর্থ দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি চিকিৎসাসহায়তা দেয়, যাতে অপচয় কম হয় এবং প্রকৃত রোগীরা দ্রুত উপকৃত হন।

আজিজুল হকের তত্ত্বাবধানে গত চালানের ওষুধ প্রয়োগ করে রাজশাহীর চারঘাটের হিমোফিলিয়া রোগে আক্রান্ত ১০ ও ১৫ বছর বয়সী দুই ভাইয়ের খতনা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এই দুই রোগীর মা তাহমিনা খাতুন জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর দুই ছেলের হিমোফিলিয়া ধরা পড়ে। দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত বের হয়। কোথাও কেটে গেলে রক্ত বন্ধ হতে চায় না। এই জন্য মুসলমানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। চিকিৎসক আজিজুল হকের তত্ত্বাবধানে গত ঈদের ১৫ দিন আগে তাঁর দুই ছেলের খতনা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বড় ছেলেটার রক্ত বন্ধ হতে একটু দেরি হয়েছে, তবে তারা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। তিনি জানান, এই অপারেশনের এবং সুস্থ হওয়া পর্যন্ত সব খরচ সরকারিভাবে বহন করা হয়েছে। তাঁদের বাড়ি থেকে কোনো খরচ দিতে হয়নি, সব ব্যবস্থা করেছেন আজিজুল হক।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার শেখের পাড়া গ্রামের কৃষক আলামিন দীর্ঘদিন বাতব্যথার কারণে হাঁটতে পারছিলেন না। ডাক্তার আজিজুল হক যখন দ্বিতীয় চালানের ওষুধ নিয়ে আসেন, তখন তিনি খবর পান। তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বেশ কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক নিশ্চিত করেন যে একটি ইনজেকশনে তিনি সুস্থ হবেন। আলামিন জানান, এই ইনজেকশন নেওয়ার পর থেকে প্রায় ছয় মাস চলে গেল। তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছেন।