চাঁদপুরের যমজ দুই বোন জিপিএ-৫ পেয়েছে, হতে চায় প্রকৌশলী
চাঁদপুরের যমজ দুই বোন নাহিয়ান তাসনিম ও তাসনুবা নুর এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। পৃথক দুটি বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষা দিয়ে তারা এ সাফল্য অর্জন করেছে। তাদের এই ফলাফলে পরিবারের সবাই আনন্দিত।
নাহিয়ান ও তাসনুবার বাবা আবুল বারাকাত লিজন পাটোয়ারী ব্যবসায়ী ও মা নিগার পিংকি গৃহিণী।
নাহিয়ান তাসনিম যমজ দুই বোনের মধ্যে কয়েক মিনিটের বড়। সে চাঁদপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইংরেজি ভার্সনের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছোট বোন তাসনুবা নুর চাঁদপুর মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষা দিয়ে একই ফল অর্জন করেছে।
নাহিয়ান তাসনিম বলে, ‘আমরা সব সময় মা-বাবার কথা মেনে চলেছি। পড়াশোনার প্রয়োজন ছাড়া তেমন বাইরে যেতাম না। অবসর সময়ে বই পড়া এবং ভাইবোন ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গল্প করে সময় কাটাতাম।’
এ সাফল্যের পেছনে পরিবারের সদস্যদের অবদানের বিষয়টি উল্লেখ করে তাসনুবা নুর বলে, ‘তারা যেভাবে আমাদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়েছে, সে কারণেই ভালো ফল করতে পেরেছি। বিশেষ করে মা এখনো আমাদের মোবাইল কিনে দেননি। ফুফু একটি ট্যাব দিয়েছিলেন, সেটিও আম্মু আলমারিতে রেখে দিয়েছেন। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পেরেছি।’
দুই বোনের ইচ্ছা ভবিষ্যতে প্রকৌশলী হওয়া। দেশের নামকরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে চায় তারা।
মা নিগার পিংকি জানান, তিনি সব সময় মেয়েদের পাশে থেকে সাহস ও উৎসাহ জুগিয়েছেন। দুজনকে নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকতেন, যেন দুজনই ভালো ফল করে। এ কারণে তাদের হাতে কখনো মুঠোফোন দেননি।
দুই মেয়ের সাফল্যের পেছনে প্রথমত শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা বলে মন্তব্য করেন বাবা আবুল বারাকাত। এরপর তাদের মায়ের অবদান। দুজনকে পৃথক স্কুলে আনা-নেওয়া ও পড়াশোনায় কিছুটা কষ্ট হয়েছে। তবে ভালো ফলাফলে সেই কষ্ট সার্থক হয়েছে।