বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ৫ নভেম্বর গণসমাবেশের অনুমতি চেয়ে ২৩ অক্টোবর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে বিএনপি। ওই দিন বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খানসহ বরিশাল দক্ষিণ ও উত্তর জেলা কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা লিখিত আবেদনটি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান। এ সময় জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারের পক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহেল মারুফ আবেদনটি গ্রহণ করেন।

মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মীর জাহিদুল কবির বলেন, আজ বেলা তিনটার দিকে জেলা প্রশাসক মুঠোফোনে কল করে নির্ধারিত স্থানে সমাবেশের অনুমতির বিষয়টি জানিয়েছেন।

বিএনপি চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৫ নভেম্বর বরিশালে গণসমাবেশ করবে। বরিশাল মহানগর বিএনপি এর আয়োজক। এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, খুলনা ও রংপুরে গণসমাবেশ করেছে দলটি।

গণসমাবেশ সফল করতে বিএনপি নেতারা আজ সোমবার নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন।

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, গণসমাবেশ সফল করতে তাঁদের প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। প্রতিদিনই নেতা-কর্মীদের নিয়ে প্রস্তুতি সভা করছেন। কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রস্তুতি সভা করছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা চলছে। সমাবেশ ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির নেতা-কর্মী, সমর্থক ছাড়াও সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে এই সমাবেশে।

সরোয়ারের প্রচারণা

গণসমাবেশ সফল করতে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার প্রচার চালিয়েছেন। আজ সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তিনি নগরের কাকলি মোড়, সদর রোড, ফজলুল হক অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘুরে ঘুরে লিফলেট বিতরণ করেন।

গত বছরের ৩ নভেম্বর নগর বিএনপির সভাপতির পদ থেকে মজিবর রহমানকে বাদ দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। এরপর মজিবর রহমান ও তাঁর অনুসারী নগর ও ৩০টি ওয়ার্ডের নেতারাও দলের কমিটি থেকে বাদ পড়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এর পর থেকে মজিবর রহমান বরিশালে দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

দলীয় সূত্র জানায়, আজ তিনি নাশকতার অভিযোগে দায়ের করা একটি পুরোনো মামলায় জেলা জজ আদালতে হাজিরা দেন। পরে বেলা ১১টার দিকে গণসংযোগে নামেন। এ সময় নগর বিএনপির কমিটি থেকে বাদ পড়া নেতা আহসান কবির হাসান, আনোয়ারুল হক, শহিদুল ইসলাম, হোসেন চৌধুরী প্রমুখ তাঁর সঙ্গে ছিলেন।