চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা প্রথম আলোকে বলেন, মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতির তিন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। গত বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যানের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনার পর অস্ত্র হাতে মনিরুজ্জামানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর তাঁকে ধরতে তত্পর হয় পুলিশ।

শুভ রঞ্জন চাকমা আরও বলেন, গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে মনিরুজ্জামানের স্ত্রী ফারজানা হক চৌদ্দগ্রাম থানায় এসে মনিরুজ্জামানের পয়েন্ট ২২ বোরের জামার্নির তৈরি রাইফেলটি জমা দেন। এরপর পুলিশ জুয়েলের অবস্থান জেনে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনায় মনিরুজ্জামানকে প্রধান অভিযুক্ত করে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ সেটির তদন্ত করছে। অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হলে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শ্রীপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের এক যুক্তরাজ্যপ্রবাসীর বাড়ি থেকে দাওয়াত খেয়ে প্রাইভেট কারে নিজ গ্রাম মান্দারিয়াতে ফিরছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহজালাল মজুমদার। বেলা তিনটার দিকে নালঘর পশ্চিম বাজারে আসামাত্র তাঁর গতি রোধ করেন মোস্তফা মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে সাত থেকে আটজন। তখন শাহজালাল গাড়ি থেকে নেমে আত্মরক্ষার্থে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। তখন তিনি বাঁ হাতে ও দুই পায়ে আঘাত পান। হামলাকারীরা চেয়ারম্যানের গাড়িতে হকিস্টিক দিয়ে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা জড়ো হলে মনিরুজ্জামান পালিয়ে যান। তখন তাঁর হাতে রাইফেল ছিল।

এই ঘটনার পর ফেসবুকে মনিরুজ্জামানের অস্ত্রের বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তিন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে মনিরুজ্জামান পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে এলাকায় রাইফেল হাতে নিয়ে প্রকাশ্যে ঘোরাঘুরি করেন, তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে চৌদ্দগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ত্রিনাথ সাহার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর বনানী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন