দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পাঁচ দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে সার্ভেয়ার আতিকুর রহমানকে। আজ সোমবার বেলা একটার দিকে তাঁকে জেলা কারাগার থেকে বের করে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয় দুদক দল। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘুষের ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকার উৎস বের করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

১ জুলাই রাতে তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। পরের দিন ২ জুলাই আতিকুরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

সার্ভেয়ার আতিকুরের বাড়ি সিরাজগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিরপুর এলাকায়। তাঁর বাবার নাম আবদুর রহমান। তাঁর চাকরি বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হলেও তিনি সংযুক্তিতে দেড় বছর ধরে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসনের ভূমি হুকুম দখল (এলএ) শাখার অধীনে মহেশখালী উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন। মহেশখালীতে সরকারের মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর স্থাপনসহ প্রায় ১৫টি প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন আতিকুরসহ তিনজন সার্ভেয়ার। ভূমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে ঘুষ লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ নিয়ে ১৪ জুলাই প্রথম আলোতে ‘কমিশন-বাণিজ্যের অভিযোগ সেই সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ জুলাই সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দরের তল্লাশি গেট থেকে প্রবেশের সময় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সার্ভেয়ার আতিকুরের কাছে টাকা পাওয়ার বিষয়টি মুঠোফোনে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজকে জানান। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আতিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। কিন্তু ততক্ষণে সার্ভেয়ার আতিকুর ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ায় তাঁকে আটকাতে পারেনি কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে ঘুষের সাড়ে ২৩ লাখ টাকাসহ আতিকুরকে আটক করা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি টাকার উৎস সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

পরে আতিকুরকে আরেকটি উড়োজাহাজে করে পুনরায় কক্সবাজারে ফেরত এনে জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আতিকুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানেও তিনি টাকার উৎস সম্পর্কে সদুত্তর দিতে না পারায় ১ জুলাই রাতে তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। পরের দিন ২ জুলাই আতিকুরকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতের বিচারক আতিকুরকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্ভেয়ার আতিকুর উৎস গোপন বা আড়াল করার উদ্দেশ্যে হস্তান্তর, স্থানান্তরের চেষ্টা করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২), ৪(৩) ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। ৪ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে কক্সবাজার বিশেষ জজ আদালতে মামলা করে দুদক।

দুদকের আইনজীবী আবদুর রহিম প্রথম আলোকে বলেন, সার্ভেয়ার আতিকুর ২৩ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা কোথায় পেয়েছেন, তার সঠিক ব্যাখ্যা আদালতেও উপস্থাপন করতে পারেননি। এখন রিমান্ডে ওই টাকার উৎস বের করার চেষ্টা করছে দুদক। একই সঙ্গে সার্ভেয়ারের ঘুষ ও কমিশন-বাণিজ্যে জড়িত দালাল চক্রের সদস্যদেরও শনাক্ত করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন