একই স্থানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, ১৪৪ ধারা জারির আবেদন

শহীদ আবু সাঈদ চত্বর। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে। ২৪ জুলাই ২০২৫ফাইল ছবি: প্রথম আলো

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের এক দিন না পেরোতেই একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দুই সংগঠন। এতে ক্যাম্পাসে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করলেও বেলা দুইটার দিকে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তা জারি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার বিকেলে ছাত্রশিবির আয়োজিত ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (জুডিশিয়াল কিলিং) হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন ও তা অপসারণকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। তাঁদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় পাঁচজন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসের সামনে আবু সাঈদ চত্বরে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দুটি সংগঠন। মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আবু সাঈদ চত্বরে আজ বিকেল ৪টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত আমাদের বিক্ষোভ মিছিল, প্রতিবাদ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচি আছে। সেখানে আমরা আমাদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে থাকব। কেউ যদি হামলা করে, আমরা ছাড় দেব না।’

আরও পড়ুন
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সোমবার রাতে প্রধান ফটকের সামনে
ছবি: প্রথম আলো

মহানগর ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক সামছুল ইসলাম বলেন, ‘বেরোবিতে ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে এবং গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আমরা লালবাগ চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আবু সাঈদ চত্বরে যাব।’

একই স্থানে দুই সংগঠন কর্মসূচি দেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, আবার সংঘর্ষ হলে শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

আরও পড়ুন

এদিকে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির পর সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় মহানগরের তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান। আবেদনে বলা হয়, গতকাল রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশের ডাক দেওয়ায় ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হতে পারে। এ জন্য ক্যাম্পাসের শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

প্রক্টর ফেরদৌস রহমান বলেন, এখন ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। বিকেলের কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম প্রথম আলো বলেন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের কর্মসূচির বিষয়টি তাঁরা জেনেছেন। যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১৪৪ ধারা এখনো জারি করা হয়নি।

সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

এদিকে গতকালের সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. শওকাত আলী। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটিতে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাসুদ রানাকে আহ্বায়ক ও সহকারী প্রক্টর মো. আব্দুল্লাহ–আল–মাহবুবকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুত তাঁদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিজয় ২৪ হল প্রাধ্যক্ষ মো. আমির শরীফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. তানজিউল ইসলাম ও রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন-আল রশীদ।

এর আগে ক্যাম্পাসে সব ধরনের যানবাহন ও অতিথি প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। মঙ্গলবার সকালে প্রক্টর ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৪ আগস্ট থেকে ক্যাম্পাসে অতিথি বা দর্শনার্থী, বাইসাইকেল, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, প্রাইভেট কারসহ সব ধরনের যানবাহন প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এ বিষয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।