ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের অন্যতম সদস্য আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় সন্তু লারমার দেওয়া স্মারকমূলে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত পত্রে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিতের অনুরোধ করায় আগামীকাল বুধবার নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। সভার পরিবর্তিত তারিখ পরে জানানো হবে।’

ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের খাগড়াছড়ি কার্যালয়ের সচিব নেজাম উদ্দীন বলেন, পার্বত্য নাগরিক পরিষদ হরতালের ডাক দেওয়ায় কমিশনের বৈঠক স্থগিতের অনুরোধ করে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর একটি চিঠি দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান। তাই বৈঠকটি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে পার্বত্য ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক ঠেকাতে আজ সকাল ছয়টায় ৩২ ঘণ্টার হরতাল শুরু করে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ। হরতালের কারণে রাঙামাটি থেকে দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে বৈঠক স্থগিতের খবরের পর বেলা দুইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে পার্বত্য নাগরিক পরিষদ হরতাল প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। এর পর থেকে রাঙামাটি শহরে সব ধরনের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গতকাল বেলা ১১টার দিকে রাঙামাটি শহরের বনরূপায় একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে হরতালের ঘোষণা দিয়েছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

পার্বত্য নাগরিক কমিটির বিবৃতি

এদিকে ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনের বৈঠক ঠেকাতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ নামের সংগঠনটির ডাকা হরতালের প্রতিবাদ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক কমিটি। নাগরিক কমিটির সভাপতি গৌতম দেওয়ান আজ গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ হরতালের প্রতিবাদ জানান।

গৌতম দেওয়ান বিবৃতিতে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিবদমান ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, যার নেতৃত্বে রয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। কমিশন সৃষ্টি হওয়ার প্রায় দুই যুগ পরও এই কমিশন নানা কারণে তার ন্যূনতম অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তার অন্যতম কারণ কমিশনের কার্যক্রমে পার্বত্য চট্টগ্রামের কিছু জাত্যভিমানী ও পাহাড়িবিদ্বেষী বাঙালি সংগঠনগুলোর প্রতিনিয়ত বাধা প্রদান, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন