আজ সকালে মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি অচিন কুমার চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটির পর ১৬ জুলাই সারা দেশে কলেজ খুলেছে। কিন্তু মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সার্বিক বিষয় বিবেচনায় এনে কলেজ দেরিতে খোলা হচ্ছে। কলেজ খোলার আগে এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলা দরকার। আগামী শনিবার এলাকার সুধীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করা হবে। এরপর রোববার কলেজ খোলা হবে।

এর আগে গত শনিবার অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ‘আমার ও শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে অজানা আতঙ্ক কাজ করছে। শিক্ষক-কর্মচারীদের মতামত নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় কলেজ খুলতে হবে। এর আগে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে সেখানকার পরিবেশ ঠিক করতে হবে। এসব পদক্ষেপ না নিয়ে কলেজ খুললে আবারও অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।’

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুন ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নিজের ফেসবুকে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিজেপির বহিষ্কৃত মুখপাত্র নূপুর শর্মার পক্ষে ছবিসহ একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে পরের দিন ১৮ জুন অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস কলেজের শিক্ষক, ওই শিক্ষার্থীর বাবা ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্যকে ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কলেজ ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে ওই শিক্ষার্থীকে তাদের কাছে সোপর্দ করা হয়। পুলিশ সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যেতে চাইলে উত্তেজিত ছাত্র ও বহিরাগত কয়েকজন বাধা দেন। তখন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানানো হয়। বিকেল চারটার দিকে শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস এবং ওই শিক্ষার্থীকে কলেজের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে বের করা হয়। নিচতলার কলাপসিবল গেটের সামনে আনার পর তাঁদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন