প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ স্লোগান দেওয়া ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের দিয়ে ধানের শীষের স্লোগান। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতারা এই স্লোগান দেওয়ান
ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতিপ্রাপ্ত ওই নেতার নাম মো. মোকাদ্দেস হোসাইন। তিনি ছাত্রদল ভূরুঙ্গামারী উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শিলখুড়ী ইউনিয়ন শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক ছিলেন।

আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান (মিন্টু) ও সদস্যসচিব মাইদুল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

অব্যাহতির চিঠিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া (ভাইরাল) একটি ভিডিওতে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুস্পষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে মোকাদ্দেস হোসাইন শিলখুড়ী ইউনিয়ন শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে কেন তাঁর বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের পূর্ব ধলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেওয়ানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় লোকজন এটিকে নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেন।
ছড়িয়ে পড়া ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের মাঠে দাঁড় করিয়ে স্লোগান দিতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছে ‘আমরা যদি বড় হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, ধানের শীষে ভোট দিতাম’, ‘আমরা যদি ভোটার হতাম, রানা ভাইকে ভোট দিতাম’।

এ বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অব্যাহতি পাওয়া মোকাদ্দেস হোসাইন প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, তিনি নির্বাচনী আচরণবিধি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ক্ষমা চেয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপরও দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি লিখিত ব্যাখ্যা দেবেন বলে জানান।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের দিয়ে রাজনৈতিক দলের স্লোগান দেওয়ানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁকে শিলখুড়ী ইউনিয়ন শাখার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।