পুলিশ জানায়, গতকাল সোমবার সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় দিকে রঘুনাথ খাঁকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থানার খালিশাখালী গ্রামের সাপমারা সেতু এলাকা থেকে ককটেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে রাতে তাঁর বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগে দুটি মামলা করা হয়।

তবে রঘুনাথ খাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী খাঁ গতকাল বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা শহর থেকে তাঁর স্বামীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের সাত ঘণ্টা পর তাঁকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ওবায়দুল্লাহ জানান, দেবহাটার সাপমারা খালের সেতুর ওপর গাছের গুঁড়ি ফেলে অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ঘটানোর লক্ষ্যে কয়েকজন দুষ্কৃতকারী অবস্থান করছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুষ্কৃতকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ করে পালানোর চেষ্টা করলে রঘুনাথ খাঁসহ তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, কাঠের গুঁড়ি ও লাঠি উদ্ধার করে। রঘুনাথ খাঁর ওই দুই সহযোগী হলেন দেবহাটার ঢেবুখালী গ্রামের রেজাউল করিম ও চালতেতলা গ্রামের লুৎফর রহমান।

এ ঘটনায় রাতেই দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক লালচাঁদ বাদী হয়ে আটক তিনজন ও পলাতক ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে থানায় মামলা করেন। এ ছাড়া দেবহাটার শিমুলিয়া গ্রামের কাজী সুরুজ ওয়ারেশের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে আসছিলেন রঘুনাথ খাঁসহ কয়েকজন। ওই ঘটনায় রঘুনাথ খাঁসহ চারজনের নামে চাঁদাবাজির মামলা করেন কাজী সুরুজ।

রঘুনাথ খাঁর স্ত্রী সুপ্রিয়া রানী খাঁ প্রথম আলোকে বলেন, আজ বিকেল চারটার দিকে তাঁর স্বামীকে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসানের আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের নির্দেশে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে তাঁকে সাতক্ষীরা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

শহর থেকে আটকের বিষয়ে ওসি শেখ ওবায়দুল্লাহ বলেন, বিষয়টি সঠিক নয়। তাঁকে গতকাল সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে দেবহাটার খালিশাখালী গ্রামের সাপমারা খালের সেতু এলাকা থেকে ককটেলসহ আটক করা হয়েছে। বাদী সেভাবেই মামলা করেছেন।