কমিটিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে প্রক্টর ও ছাত্র-উপদেষ্টা এবং দুজন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার রয়েছেন। আহ্বায়ক হিসেবে আছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ।

বুধবার দিবাগত রাত ১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসে কমিটি গঠনের ওই কথা জানান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদের ডিন ও মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি মো. ফরিদুল ইসলাম।

ফরিদুল ইসলাম বলেন, শাহরিয়ারের মৃত্যুতে সহপাঠীরা কতটুকু মর্মাহত, এটা তাঁরা বুঝতে পারছেন। তবে হাসপাতালে যে ঘটনা ঘটে গেছে, সবাই চায় তার সুষ্ঠু বিচার হোক। এ বিষয়ে সবাই একমত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেটাও তাঁরা দেখবেন। তিনি বলেন, এখানে গ্রাম পর্যায়ের মানুষ থেকে সবাই চিকিৎসা নেন। এই মুহূর্তে তিন হাজার রোগী ভর্তি আছেন। মরণাপন্ন অনেক রোগী আছে। এখানে এই ঘটনা (হামলা-সংঘর্ষ) কেন ঘটল, কীভাবে ঘটল, তাঁর বিচার হবে।

এ সময় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বক্তব্য দেন। এর পর শিক্ষার্থীরা রাত দুইটার দিকে ক্যাম্পাসে ফেরেন। তাঁদের ফেরার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাসের ব্যবস্থা করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা অধ্যাপক তারেক নূর রাত আড়াইটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে ফিরেছেন। পরিবারের সদস্যরা আসছেন। এর পর তাঁদের কাছে শাহরিয়ারের মরদেহ হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে শহীদ হবিবুর রহমান হলের তৃতীয়তলার বারান্দা থেকে পড়ে যান মার্কেটিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কে জি এম শাহরিয়ার। অ্যাম্বুলেন্সে করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে জরুরি বিভাগে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালে ভাঙচুর চালান শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সহপাঠী চিকিৎসার অবহেলায় মারা যাওয়ায় তাঁরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ওই সময় হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ও আনসার সদস্যরা তাঁদের মারধর করেন। একপর্যায়ে তাঁরা হাসপাতালের গাছের টব ভাঙেন। এ ঘটনায় পরে মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

শাহরিয়ারকে সঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়নি অভিযোগ করে হাসপাতালে আসা শিক্ষার্থীদের কয়েকজন বলেন, তাঁরা শাহরিয়ারকে জরুরিভাবে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নিতে বলেন। কিন্তু হাসপাতালে জরুরি বিভাগে থাকা ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা বলেন, চিকিৎসকের রেফারেন্স লাগবে। পরে ওই শিক্ষার্থী সেখানেই মারা যান।

অভিযোগের বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সিং সভাপতি শাহাদাতুন নুর লাকী প্রথম আলোকে বলেন, ওই রোগী আসার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আসলে উনি আগেই মারা গিয়েছিলেন। এ অবস্থায় ‘ডাক্তার কই, ডাক্তার কই’ করে যখন ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে পড়েন, তখন ইন্টার্ন চিকিৎসক ভয় পেয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। পরে ওই সংঘর্ষ শুরু হয়।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা সবাই একযোগে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানিয়েছেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি, হাসপাতালে হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁদের নিরাপত্তা দিতে হবে। এ দাবিতে রাত ১২টার দিকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।