নেত্রকোনা-৫
জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে টাকার ব্যাগ নিয়ে কেন্দ্রে ঢোকার অভিযোগ তুলে হেনস্তা বিএনপির সমর্থকদের
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাছুম মোস্তফা একটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে ব্যাগ নিয়ে ঢোকেন বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির প্রার্থী আবু তাহের তালুকদার। আর মাছুম মোস্তফার অভিযোগ, তিনি কেন্দ্র পরিদর্শেন শেষে বের হওয়ার সময় বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকেরা তাঁকে অবরুদ্ধ করে হেনস্তা করেন।
আজ বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষের দিকে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কাপাশিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে এ ঘটনা ঘটে।
বিএনপির প্রার্থী আবু তাহেরের অভিযোগ, মাছুম মোস্তফা ভোট গ্রহণ শেষে কাপাশিয়া উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে তাঁর দুজন সমর্থকসহ একটি ব্যাগ নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কক্ষে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বের হন। তাঁর অভিযোগ ওই ব্যাগে তিনি টাকা নিয়ে গিয়েছিলেন। পরে তিনি কেন্দ্র থেকে বের হয়ে এলে স্থানীয় লোকজন ব্যাগে কী ছিল তা জানতে চান। তখন ওই দুই ব্যক্তি দৌড়ে সটকে পড়েন। আর মাছুম মোস্তফা কোনো সদুত্তর দিতে না পেরে দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যান।
আবু তাহের অভিযোগ বলেন, ‘জামায়াতের প্রার্থী ব্যাগে টাকা নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ভোটের কাজে নিয়োজিত কর্মীদের প্রভাবিত করেছেন। এ ব্যাপারে আমি সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিয়েছি।’
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মাছুম মোস্তফা বলেন, ভোট গ্রহণ শেষের দিকে তিনি কেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে বের হন। এ সময় ঘাগড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবীর ইদ্রিসের নেতৃত্বে উচ্ছৃঙ্খল বেশ কিছু লোকজন তাঁকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে তিনি গাড়িতে উঠে যেতে চাইলেই টপাটকেল ছোড়া হয়।
মাছুম মোস্তফা আরও বলেন, ‘আমি কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বাইরে এলে তাঁরা মব সৃষ্টি করার লক্ষ্যে ঘিরে রাখেন। তাঁরা বলেন, “আমি নাকি ব্যাগে করে টাকা নিয়ে কেন্দ্রে গিয়েছিলাম।” মূলত এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলে আমাকে হেনস্তা করা হয় ও গাড়ি ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। এ ব্যাপারে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। শুধু ওই কেন্দ্রের ঘটনাই নয়, আরও বেশ কিছু স্থানে আমার কর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রদানে বাধাসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করব।’
এ ব্যাপারে জানতে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আবু মাসুদ আকন্দের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। আর সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পূর্বধলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনিছুর রহমান খান ফোন কেটে দেন।