কামরুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ৫ নভেম্বর মামলা করার পর প্রধান আসামি ইশরাক হোসেনসহ ৫৫ আসামি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নেন। ৬ সপ্তাহ পর আজ ইশরাক বাদে বাকি ৫৪ আসামি জেলা জজ আদালতের বিচারক কে এম রাশেদুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মো. মহসীন মন্টু, আবদুর রহমান চোকদার, জাহিদুল ইসলামসহ অন্যরা।

বরিশালের গণসমাবেশে যাওয়ার পথে ৫ নভেম্বর গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাসস্ট্যান্ডে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর করেন স্থানীয় যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। জবাবে বহরে থাকা বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে স্থানীয় মাহিলাড়া মডার্ন ক্লাবে ভাঙচুর করেন এবং যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১৫ নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করেন। এ ঘটনায় ওই দিন রাতে যুবলীগের নেতা রাসেল রারি বাদী হয়ে ইশরাককে প্রধান আসামি করে গৌরনদী উপজেলা ও পৌর বিএনপির ৭১ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ১৩০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, মাহিলাড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রাসেল রারি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিলাশ কবিরাজ ও মাহিলাড়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. সহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী বিএনপির নেতা ইশরাকের গাড়িবহরে হামলা করে নেতা-কর্মীদের রক্তাক্ত করে। পরে উল্টো তাঁদের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদী রাসেল রারি বলেন, বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাঙচুর ও যুবলীগের ১০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

ঘটনার দিন সমাবেশে যাওয়ার পথে মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে বরগুনার বিএনপি নেতা মনিরুল ইসলাম, পাথরঘাটার বিএনপি নেতা পলাশ হোসেন, ভোলার বিএনপি নেতা সফিউদ্দিনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে গৌরনদী মডেল থানার পুলিশ। তাঁদের ওই মামলার আসামি করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। বর্তমানে তাঁরা জামিনে আছেন। মামলার বাকি ১০ আসামি পলাতক।