বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আগেভাগে রংপুরে পৌঁছে যাওয়া নেতা–কর্মীরা বিক্ষিপ্তভাবে সেখানে আসছেন। মাঠের এদিক–সেদিক ঘুরছেন, ছবি তুলছেন। আবার ফিরে যাচ্ছেন। এমন ৩০ জনের সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তবে তাঁদের মধ্যে অনেকেই নাম–ঠিকানা জানাতে অপারগতা জানিয়েছেন।

নেতা–কর্মীরা বলছেন, ময়মনসিংহ ও খুলনার ধারাবাহিকতায় রংপুরেও বিএনপির গণসমাবেশের আগে গণপরিবহন বন্ধ করা হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেই আশঙ্কা সত্যি করে পরিবহন ধর্মঘটের ঘোষণা এল। ফলে অনেকেই দুপুরের পর থেকে বাসে করে রংপুর আসতে শুরু করেন। কেউ আসছেন ট্রেনে করে।

লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকা পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান (৪৬) ও রহিদুল ইসলাম (৪০)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রেনে করে পাটগ্রাম থেকে রংপুর স্টেশনে এসে পৌঁছান তাঁরা। মোস্তাফিজার রহমান বলেন, তাঁর মতো অনেকেই দুপুরের ট্রেনে রংপুরে এসেছেন। কোথায় থাকবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এত দূর থেকে গণসমাবেশে আসলাম, থাকার জন্য কি চিন্তা করতে হয়? মিলে যাবে কোনো নেতা কিংবা কর্মীর বাড়ি।’

রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এভাবে বাধা পাওয়ার পর বেশ মজাই লাগছে। রংপুরের সব জনগণের মুখে মুখে এখন একটাই অলোচনা, বিএনপির সমাবেশ। এভাবে বাসের চাকা বন্ধ করে কি সমাবেশ ঠেকানো সম্ভব?’

বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে রংপুরে পৌঁছেছেন রংপুর বিভাগীয় গণসমাবেশ আয়োজনের দায়িত্বে থাকা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ। সমাবেশস্থল পরিদর্শন শেষে আজ বিকেলে তিনি বলেন, ‘সমাবেশের আগে গণপরিবহন বন্ধ করা একটা নতুন নাটক। আগামী শনিবার রংপুরে আমরাও খেলা দেখাব। স্মরণকালের সর্ববৃহৎ গণসমাবেশ হবে এদিন। যার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হবে যে সারা দেশের মানুষ বিএনপির সঙ্গে আছে।’

পরিবহন ধর্মঘট দিয়ে যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা না হয়, এ জন্য পরিবহনমালিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আজ রাতের মধ্যে সমাবেশে যোগদান করা লোকজন চলে আসবে। বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাড়িগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত।’