দেশে এল আমিরাতে ড্রোন হামলায় নিহত প্রবাসীর মরদেহ, কুমিল্লায় দাফন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ব্যবহৃত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে নিহত প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার (৪৫) মরদেহ দেশে এসেছে। নিহত হওয়ার ৯ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ এসে পৌঁছায়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম তাঁর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামে এসে পৌঁছায় মরদেহ। বাদ আসর স্থানীয় জিরুইন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত শাহ আলম ভূঁইয়া জিরুইন গ্রামের প্রয়াত হানিফ ভূঁইয়ার ছেলে। ১ এপ্রিল সকালে আরব আমিরাতে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁর স্ত্রী, দুই মেয়ে ও দুই ছেলে আছে। সন্তানদের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে কয়েক বছর আগে। দুই ছেলে এখনো ছোট। তাদের একজন ঢাকায় একটি মাদ্রাসায় পড়ে। অন্যজন স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
আজ সকাল পৌনে নয়টায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেট দিয়ে প্রবাসী শাহ আলম ভূঁইয়ার মরদেহ এসে পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। এ সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে লাশ সাহেবাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য জাকির হোসেনসহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে ৩৫ হাজার টাকার চেক এবং ইরান সংকটজনিত বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, শাহ আলম ভূঁইয়া ছিলেন বৈধ কর্মী। এ কারণে তাঁর পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তবে বিমা না থাকায় ১০ লাখ টাকার অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে না। জাতিসংঘের সার্টিফিকেশনপ্রক্রিয়া শেষে এই সহায়তা দেওয়া হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সাতজন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘নিহত সাতজনের মধ্যে এটি দেশে আনা পঞ্চম মরদেহ। একজনকে ঘটনাস্থলেই দাফন করা হয়েছে এবং আরেকজনের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান। আজ আমরা শাহ আলমের মরদেহ গ্রহণ করলাম। আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি এবং পরিবারের জন্য শক্তি প্রার্থনা করি।’
স্বজনেরা জানান, আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ ডিব্বা গোফ এলাকার একটি খামারে কাজ করতেন শাহ আলম ভূঁইয়া। ১ এপ্রিল স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে আরেক সহকর্মীসহ হেঁটে কাজে যাচ্ছিলেন তিনি। শাহ আলম ছিলেন সামনে, ঠিক পেছনে প্রায় ১০ হাত দূরে ছিলেন ওই সহকর্মী। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধে ব্যবহৃত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শাহ আলমের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে দেশটির পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পর থেকেই স্বজনেরা দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
মরদেহ গ্রহণের সময় উপস্থিত থাকা ইউপি সদস্য মো. জাকির হোসন প্রথম আলোকে বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে আমরা মরদেহ গ্রহণ করি। এরপর বাড়িতে এসে পৌঁছায় বিকেল ৪টার দিকে। মরদেহ গ্রহণের সময় শাহ আলমের স্ত্রী নয়না আক্তার, বড় মেয়ে শারমিন আক্তার, ভাই খোরশেদ আলম ভূঁইয়া ও বোন সাবিনা ইয়াসমিন উপস্থিত ছিলেন।’
নিহত শাহ আলমের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম আমিরাত সরকার বা তিনি যেখানে কাজ করতেন, সেখান থেকে ভালো কোনো সহায়তা করা হবে। কিন্তু এখনো এমন কিছু হয়নি। অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকারসহ সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’