পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওমর ফারুক বলেন, মামলায় এজাহারনামীয় আসামিসহ অজ্ঞাত আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার রাত ৯টার পর এম ওয়াজেদ আলী পাটগ্রাম পৌর বাজার থেকে নিজ বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। ভাগনে রুহুল আমিনের বাসা ও তাঁর বাসার দূরত্ব ৫০ থেকে ৬০ গজ হবে। তিনি নিজ বাসার সীমানাপ্রাচীরের ফটকের সামনে পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা তাঁর পথ রোধ করে এবং মাথা, গলা ও কাঁধে কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

গতকাল সকালে সরেজমিন নিউ পূর্বপাড়ায় নিহত এম ওয়াজেদ আলীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক মানুষের ভিড়, শোকার্ত পরিবেশ। হত্যাকাণ্ড, কীভাবে হত্যা করা হলো, এসব বিষয়ে কেউ কেউ আলোচনা করছেন। যেখানে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেখানে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। তাঁর চাদর, চশমা ও স্যান্ডেল পড়ে আছে।

এম ওয়াজেদ আলীদের একই বাড়িতে বসবাস করা তাঁর ভাতিজির স্বামী আশরাফুল হাবিব বলেন, ঘটনার সময় তিনি শব্দ শুনতে পান। এরপর বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখেন ওয়াজেদ আলী ফটকের সামনে মাটিতে পড়ে কাতরাচ্ছেন। আরেক প্রতিবেশী ইয়াকুব আলীও একই কথা বলেন। তবে তাঁরা কেউই দুর্বৃত্তদের দেখতে পাননি বলে জানান।

এদিকে গতকাল বিকেল পাঁচটায় পাটগ্রাম তারকনাথ (টিএন) স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এম ওয়াজেদ আলীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোতাহার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন প্রমুখ। এর আগে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষবিদায় জানানো হয়। পরে উপজেলার জগতবেড় উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সন্ধ্যা ছয়টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় জানাজা শেষে জগতবেড় এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।