সাভারে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর, সাংবাদিককে মারধর

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন পোশাক শ্রমিকেরা। রোববার বেলা তিনটার দিকেছবি : প্রথম আলো

পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার সাভারের আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের কয়েকটি জায়গায় আজ রোববার দিনভর বিক্ষোভ হয়েছে। হেমায়েতপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক দেড় ঘণ্টার মতো অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকেরা। এ সময় কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এমন পরিস্থিতিতে সাভারের হেমায়েতপুর ও আশুলিয়ার ১৭৭টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয় বলে আজ সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে প্রথম আলোকে জানান আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

মহাসড়ক অবরোধের সময় পোশাকশ্রমিকেরা হেমায়েতপুরে ঢাকা–আরিচা মহাসড়ক–সংলগ্ন একেএইচ গ্রুপের কারখানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন। মহাসড়ক অবরোধের কারণে প্রায় দেড় ঘণ্টা সড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ ছিল। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের মারধরের শিকার হন স্থানীয় এক সাংবাদিক। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন প্রথম আলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পুলিশ, শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সাভারের আশুলিয়া, ঢাকার মিরপুর ও গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শ্রমিকদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে দুপুরে হেমায়েতপুরের কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। তবে একেএইচ গ্রুপের কারখানায় কাজ করছিলেন শ্রমিকেরা।

সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় একেএইচ গ্রুপের কারখানা চত্বরে গাড়ি ভাঙ্চুর করা হয়েছে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে
ছবি : প্রথম আলো

বেলা আড়াইটার দিকে ছুটি ঘোষণা করা কারখানার শ্রমিকদের একটি অংশ একেএইচ গ্রুপের কারখানার সামনে যান। তাঁরা ওই কারখানার শ্রমিকদের কারখানা থেকে বের হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রমিকেরা বের না হওয়ায় এবং কারখানা কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা না করায় তাঁরা কারখানা চত্বরে ঢুকে কারখানার কাচ, শ্রমিকদের পরিবহনের বাস, প্রাইভেট কার ও কাভার্ড ভ্যানের কাচ ভাঙচুর করেন। এ ছাড়া কারখানার ফটকে নিরাপত্তারক্ষীদের বসার কক্ষে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে তাঁরা সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় সড়কের উভয় পাশে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন

ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে প্রাইম টিভির সাভার উপজেলা প্রতিনিধি গোপাল মালাকারকে মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে সাভার মডেল থানার পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যায়।

গোপাল মালাকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভিডিও করার সময় কয়েকজন বিক্ষোভকারী ভিডিও কেন করছি, এটা বলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় আমার মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেন তাঁরা। যে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছিলাম, সেটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।’