বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা হত্যার ঘটনায় যুবলীগ নেতাসহ ১৩ জনের নামে মামলা

নিহত আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল ইসলাম
ছবি: সংগৃহীত

বাগেরহাটে আওয়ামী লীগ নেতা মো. আনারুল ইসলাম ওরফে আনাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে বাগেরহাট পৌর যুবলীগের ১ নম্বর সদস্য সোহেল হাওলাদার ওরফে কালা সোহেলকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন নিহত ব্যক্তির স্ত্রী মাফুজা বেগম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি কালাম বয়াতি ও আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে নিবাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আনারুল ইসলাম বাগেরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট পৌর শহরের পূর্ব বাসাবাটি এলাকায়। গত শনিবার বেলা একটার দিকে সদর উপজেলার বৈটপুর এলাকার চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের সামনে তাঁর ওপর হামলা করে একদল দুর্বৃত্ত। বিকেলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

গতকাল দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে নিহত ব্যক্তির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে সেখানকার পরিবেশ। জানাজা শেষে রাতেই পূর্ব বাসাবাটি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ জানায়, বাগেরহাট সদরের বৈটপুর এলাকার একটি সরকারি খালের দখল ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। সেদিন সোহেল হাওলাদারসহ সাত থেকে আটজনের নেতৃত্বে আনারুলের ওপর ওই হামলা হয়। আনারুলকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে যান হামলাকারী ব্যক্তিরা।

আনারুলের ছোট ভাই বাচ্চু শেখ বলেন, সোহেলের খালু কালাম বয়াতির সঙ্গে ঘের নিয়ে বিরোধ ছিল তাঁর। তাঁর মেজ ভাই আনারুলের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না। তারপরও তাঁরা আনারুলকে প্রকাশ্যে মেরে ফেললেন।

অভিযুক্ত সোহেল হাওলাদার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ কয়েকজনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। তিনি বাগেরহাট পৌর যুবলীগের ১ নম্বর সদস্য। বাগেরহাট সদর উপজেলার নাগেরবাজার এলাকার রশীদ হাওলাদারের ছেলে তিনি। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে।

আরও পড়ুন

বৈটপুর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মূলত চিংড়ি গবেষণা কেন্দ্রের পেছনের একটি সরকারি খালের দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের বিরোধ চলছিল। সুরালী খাল আটকে অনেক বছর ধরে মাছ চাষ করে আসছিল একটি পক্ষ। ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনের পর ওই পক্ষের কাছ থেকে খালটির দখল নেয় অন্য পক্ষ। দুই বছর আগে আবার খালটির একটি অংশ দখলে নেয় আগের পক্ষ। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে ঝামেলা হয়। হামলাকারী ও হামলার শিকার দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম আজিজুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা আনারুল ইসলাম ওরফে আনা হত্যাকাণ্ডে জড়িত এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অপর আসামিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত।