আইনজীবী পঙ্কজ তালুকদার বলেন, গত ৩০ আগস্ট ঝুমন দাস গ্রেপ্তার হওয়ার পর ৪ সেপ্টেম্বর তাঁর আইনজীবী সুনামগঞ্জে জামিন চেয়েছিলেন। কিন্তু জামিন হয়নি। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আবার জামিনের আবেদন করা হয়। আদালতের বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে ঝুমন দাসের পরিবার উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেয়।

ঝুমন দাসের বাড়ি সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে। শাল্লা থানার পুলিশ তাঁকে ৩০ আগস্ট দুপুরে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাঁর বিরুদ্ধে শাল্লা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমনুর রহমান বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পরদিন তাঁকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। ঝুমন দাস ওই দিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে এর আগে একই থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত বছরের ২২ মার্চ আরেকটি মামলা করেছিল পুলিশ। ওই মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেলে ছিলেন। মামলাটি এখন সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালে আছে।

এবার ঝুমন দাসকে গ্রেপ্তারের পর সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ আগস্ট বেলা তিনটায় ঝুমন দাস নিজের ফেসবুক আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে—এমন পোস্ট করেন।

ঝুমন দাস তাঁর জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন, ২৮ আগস্ট তাঁর ফেসবুক আইডিতে অন্য একজনের আইডি থেকে একটি পোস্ট আসে। তাতে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলের নবরত্ন মন্দিরের ফটকে একটি মসজিদের দানবাক্স লাগানো ছিল। এই পোস্ট পড়ে তিনি সেটি কপি করে তাঁর টাইমলাইনে শেয়ার করেন। পরে তিনি সেটি ‘অনলি মি’ করে ফেলেন। এরপর শোনেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আদালতের জবানবন্দি দেওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুল হককে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া ঝুমন দাসের একটি পোস্টের জেরে গত বছরের ১৭ মার্চ সকালে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা হয়। হামলার ঘটনার আগে ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা শহরে আয়োজিত এক সমাবেশে হেফাজত নেতা মামুনুল হক বক্তব্য দেন। পরে মামুনুল হককে নিয়ে নিজের ফেসবুকে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেন বলে অভিযোগ ওঠে ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে। ১৬ মার্চ রাতে ঝুমন দাসকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ১৭ মার্চ সকালে উপজেলার কাশিপুর, দিরাই উপজেলার নাসনি, সন্তোষপুর ও চণ্ডীপুর গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে নোয়াগাঁও গ্রামে হামলা চালায়।

এ ঘটনায় পরে শাল্লা থানায় মামলা হয় তিনটি। এর মধ্যে দুটি হয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায়। অন্য মামলাটি পুলিশ করে ঝুমন দাসের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে। এ মামলায় তিনি প্রায় ছয় মাস জেল খাটার পর হাইকোর্ট থেকে এক বছরের জন্য ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জামিন পান।