ছাদ থেকে ফেলে ছাত্রদল নেতাকে হত্যার অভিযোগ, পীরগাছা থানার ৪ পুলিশ প্রত্যাহার

ছাত্রদল নেতা মোনারুলের লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সামনে রেখে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন স্বজ্ন ও পাড়া প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে রংপুরের পীরগাছা থানার সামনেছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগাছা থেকে নিখোঁজ এক কিশোরীকে উদ্ধারে ঢাকার সাভারে পুলিশের অভিযানের সময় ছাত্রদল নেতা মোনাারুল ইসলাম বকশীর (৩০) মৃত্যুর ঘটনায় শনিবার রাতে পীরগাছা থানার চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে ঢাকা ও রংপুরে পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মোনারুল সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামে। পরিবার নিয়ে তিনি সাভারে থাকতেন।

পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতে মনোয়ারুলকে ভবনের ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। তবে পুলিশ বলছে, অভিযানের সময় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মনোয়ারুল।

প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্যরা হলেন, পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক রঞ্জন বর্মন, এএসআই মো. ওসমান আলী, কনস্টেবল প্রশান্ত কুমার ও সুমী আক্তার। তাঁরা মনোয়ারুলকে উদ্ধারে পরিচালিত অভিযানে ছিলেন। ওই দিনই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, পীরগাছার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী গত ২৩ জুলাই নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা পীরগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ কিশোরীর অবস্থান সাভারে শনাক্ত করে। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পীরগাছা থানার এসআই কনক রঞ্জন বর্মণের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাভারের লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের (বিপিএটিসি) কোয়ার্টারে যায়। অভিযানে সাভার থানা-পুলিশও সহযোগিতা করে।
পুলিশের ভাষ্য, অভিযান চলার সময় ভবনের ছাদ থেকে নিচে কিছু পড়ার শব্দ শুনতে পান তাঁরা। পরে সেখানে গিয়ে মনোয়ারুলকে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন

তবে পুলিশের এই বর্ণনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে নিহত ব্যক্তির পরিবার। নিহত ছাত্রদল নেতার ভাই মমদেল হোসেনের দাবি, কিশোরীটির সঙ্গে তাঁর স্বজনের সম্পর্ক ছিল। তাঁরা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিল। কিশোরীকে উদ্ধারে পুলিশের সঙ্গে তাঁর বাবা ও আরও একজন ব্যক্তি সেখানে যান।

মমদেল হোসেনের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিদের একজন পুলিশের পোশাক পরা ছিলেন। ছাদে মনোয়ারুলের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আইনের সহযোগিতা নিয়ে কিশোরীর বাবা পুলিশসহ আমার ভাইকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়েছে। ছাদে ভাইয়ের সঙ্গে হয়তো মিন্টুর কথা-কাটাকাটি হয়েছে। সে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছে।’

এ ঘটনায় শনিবার সকাল আটটার দিকে মনোয়ারুলের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে পীরগাছা থানার সামনে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। মরদেহ থানার সামনে রেখে তাঁরা বিক্ষোভ করেন। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

আরও পড়ুন